২৪ নভেম্বর, ২০১৩

চুমু চমৎকার


‘যে লোক সুন্দরী তরুণীকে চুমু খেতে খেতে গাড়ি চালাতে পারে সে আসলে চুমুটার প্রতি মনযোগী নয়।’ কথাটা কোনো লেখক-কবি কিংবা নায়ক-নায়িকার মুখে শোনালে মানা যেত, কিন্তু অমোঘ এ বাণী উচ্চারিত হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে খটমটে বিষয়ের বিজ্ঞানী অ্যালবার্ট আইনস্টাইনের মুখ দিয়ে! বিজ্ঞানী মশাই ভেবেচিন্তে দেখেছেন, মনযোগী হলে ওই চুমুর প্রতিই হওয়া উচিৎ, গাড়ির প্রতি নয়! আইনস্টাইন যে প্রেমিক পুরুষ ছিলেন তা জানা কথা, তবে কথাটা ফেলে দেওয়ার মতো নয়। সময়ে সময়ে চুমুর প্রতি মনযোগী হওয়াটা আমাদের অবশ্য কর্তব্য। কেন? নিম্নে ৬টি কারণ দর্শানো হইলো-

চুমু যখন আঠা
প্রেমের সম্পর্কে চুমু রীতিমতো আঠা হিসেবে কাজ করে। এর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাও আছে। প্রতিটি চুমুতে শরীরে নিঃসৃত হয় বিশ্বাস ও আস্থা বৃদ্ধির হরমোন অক্সিটসিন। আর বিশ্বাসই তো সম্পর্কের সিমেন্ট।

রোগ সারাতে
চুমুর জৈবিক আদান প্রদানে বেড়ে যায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ভাইরাসের বংশবৃদ্ধিও ব্যহত হয়। তবে এক্ষেত্রে চুমুটা যদি হয় দৈহিক মিলনের অনুষঙ্গ, তবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে দ্বিগুণ গতিতে।

সুখের সূত্র
চুমু খেলে এনডোফিন ও এনডোরফিনস নামে দুটো আলাদা হরমোন একইসঙ্গে ছড়িয়ে যায় শরীরময়। দুটো সুখানুভূতির হরমোন। বিষণ্নতা কাটাতে তাই মনোবিজ্ঞানীর চেম্বারে ছোটার আগে চুমু খেয়ে দেখুন।

ব্যথানাশক
চুমু মানেই হরমোনের খেলা। আবেগঘন চুমুতে নিঃসরণ ঘটবে অ্যাড্রিনালিনের। পেইনকিলার হিসেবে যার জুড়ি নেই। মাথাব্যথা থাকা অবস্থায় যারা চুমু খেয়েছেন তাদের অনেকেই বলেছেন, চুমুই হতে পারে আসল প্যারাসিটামল।

চাপ কমাতে
দিন শেষে নিজেকে ক্লান্ত বিধ্বস্ত মনে হলে এর জন্য দায়ী করুন চাপের হরমোন করটিসলকে। তবে চুমু খেলেই ফের চাঙ্গা। কেননা, চুমুর ফলে কমে আসে করটিসলের মাত্রা।

কমাবে ওজন
ওজন কমাতে ক্যলোরি পোড়াতে হবে বেশি বেশি। এখানেও চুমুর চমৎকারিত্ব দৃশ্যমান! ব্যয়াম করার সময় শ্বসনের গতি বাড়ে, আর চুম্বনের সময় সেটার গতি বাড়ে দ্বিগুণ! আবার মুখের ব্যায়ামও করিয়ে ছাড়ে এই চুমু। যাতে টিকে থাকে চেহারার তারুণ্য।

তো, নিজের প্রিয়জনকে চুমু খেতে যারা অজুহাত হাতড়ে বেড়াচ্ছেন, তাদের নিশ্চয়ই আর মাথাকুটে মরতে হবে না।

২৩ নভেম্বর, ২০১৩

হার্ট অ্যাটাক হঠাৎ হয় না


হুট করে একদিন হুমড়ি খেয়ে পড়লেন। কী ব্যাপার? না, হার্ট অ্যাটাক। অথচ শরীর-স্বাস্থ্য পুরোপুরি ফিট, গায়ে একরত্তি মেদ নেই, রক্তচাপ নেই, দুর্ভাবনা-দুশ্চিন্তা নেই তিল পরিমাণও। ভুলেও কখনও বুকে ব্যথা অনুভব করেননি। তবু আচমকা আক্রান্ত হলেন হার্ট অ্যাটাকে। এর কারণ কী?

নতুন গবেষণায় বলা হয়েছে, ব্যাপার কিছু না। আসল কথা হলো, হৃদরোগ বা হার্ট অ্যাটাক আগে থেকে বলেকয়ে আসবে, এমনটা ভাবাই ভুল। তবে আক্রান্ত হওয়ার মাসখানেক আগে থেকে কিছুটা হুঁশিয়ারি সংকেত আপনি পেতেও পারেন। কখনও কখনও মাসখানেক না হলেও, মাত্র এক ঘণ্টা আগে হলেও আপনাকে হুঁশিয়ারি দেবে।

হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হওয়ার ৫টি লক্ষণ তুলে ধরা হলো:
  1. বুকে অস্বস্তি বা ব্যথা: বুক ব্যথা বা ধড়ফড় করা, অস্বস্তি কিংবা প্রচণ্ড চাপ বোধ হওয়া হার্ট অ্যাটাকের অন্যতম উপসর্গ। একটানা কয়েক মিনিট এ ধরনের অনুভূতি হওয়া বা কিছুক্ষণ পরপর তা অনুভূত হতে পারে।
  2. শরীরের ওপরের অংশে অস্বস্তি: এক বা দুই হাত, পিঠ, ঘাড়, চোয়াল বা পাকস্থলীতে ব্যথা বা অস্বস্তি অনুভূত হতে পারে। 
  3. অবসাদগ্রস্ততা ও স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা: স্বাভাবিকভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে ও ছাড়তে কষ্ট হতে পারে। শরীর অবসাদে ভেঙে পড়তে পারে। বুকের মধ্যে অস্বস্তি বোধ হোক বা না হোক, শ্বাস-প্রশ্বাস অস্বাভাবিক হলে সতর্ক হতে হবে।
  4. অতিরিক্ত ঘাম হওয়া: ব্যায়াম বা পরিশ্রম ছাড়াই অতিরিক্ত ঘাম হতে পারে।
  5. অন্য উপসর্গ: বদহজম, অরুচি, বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া ও মাথা হালকা বোধ হতে পারে।
তাই সামান্যতম লক্ষণ টের পেলেই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াটাই সবচেয়ে ভালো প্রতিরোধ, যা আপনাকে অচিরেই দুনিয়া ত্যাগ করা থেকে আরও কিছু সময় রক্ষা করবে। গবেষণা কর্মটির প্রধান পরিচালক যুক্তরাষ্ট্রের সিডার্স-সিনাই হার্ট ইনস্টিটিউটের ভিজিটিং সায়েন্টিস্ট ড. ইলই মারিজন বলেন, 'হার্ট অ্যাটাক হওয়ার আগেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে হয়। শেষ মুহূর্তে সচেতন হলেও খুব একটা লাভ হয় না।

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

ভাত খাবার পর ৭টি কাজ থেকে বিরত থাকুন

পৃথিবীর কমপক্ষে তিনশ কোটি মানুষের প্রধান খাবার ভাত। আমাদের প্রধান খাবারও এই ভাত। আমরা অনেকেই জানিনা যে স্বাস্থ্য রক্ষায় ভাত খাবার পর কিছু কাজ হতে বিড়ত থাকা প্রয়োজন। নিজিকে সুস্থ্য থাকতে বিরত থাকুন নিচের সাত কাজ থেকে।

কাজ গুলো হলো:
  1. খাবার শেষ করার পর পরই তাৎক্ষণিক ভাবে কোন ফল খাবেন না। গ্যাস ফর্ম করতে পারে। খাবার খাওয়ার এক থেকে দুই ঘন্টা পর, কিংবা এক ঘন্টা আগে ফল খাবেন।
  2. ধুমপান করবেন না। করছেন তো মরছেন। আপনি সারাদিনে অনেকগুলো সিগারেট খেলেও যতটুকু না ক্ষতি করবে, তার চাইতে অনেক বেশী ক্ষতি করবে যদি ভাত খাবার পর একটা খান। ভাত খাবার পর একটা সিগারেট খাওয়া আর সার্বিকভাবে দশটা সিগারেট খাওয়া ক্ষতির দিক দিয়ে সমান অর্থ বহন করে।
  3. চা খাবেন না। চায়ের মধ্যে প্রচুর পরিমানে টেনিক এসিড থাকে যা খাদ্যের প্রোটিনের পরিমাণকে ১০০ গুণ বাড়িয়ে তুলে যার ফলে খাবার হজম হতে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশী সময় লাগে।
  4. বেল্ট কিংবা প্যান্টের কোমর লুস করবেন না। খাবার পরপরই বেল্ট কিংবা প্যান্টের কোমর লুস করলে অতি সহজেই ইন্টেসটাইন (পাকস্থলি থেকে মলদ্বার পর্যন্ত খাদ্যনালীর নিম্নাংশ) বেকে যেতে পারে, পেঁচিয়ে যেতে পারে অথবা ব্লকও হয়ে যেতে পারে। যাকে বলে ইন্টেস্টাইনাল অবস্ট্রাকশন।
  5. গোসল করবেন না। ভাত খাবার পরপরই স্নান করলে শরীরের রক্ত সঞ্চালন মাত্রা বেড়ে যায়। ফলে পাকস্থলির চারপাশের রক্তের পরিমাণ কমে যেতে পারে যা শরীরের পরিপাক তন্ত্রকে দুর্বল করে ফেলবে, ফলে খাদ্য হজম হতে সময় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশী লাগবে।
  6. ঘুমোতে যাবেন না। এটা অবশ্য আমরা সবাই ই কমবেশী জানি যে, ভাত খেয়েই ঘুমোতে যাওয়া উচিত নয়। কারণ এতে খাদ্য ভালোভাবে হজম হয় না। ফলে গ্যাস্ট্রিক এবং ইন্টেস্টাইনে ইনফেকশন হয়।
  7. হাটা চলা করবেন না। অনেকেই বলে থাকেন যে, খাবার পর ১০০ কদম হাটা মানে আয়ু ১০০ দিন বাড়িয়ে ফেলা। কিন্তু আসলে বিষয়টা পুরোপুরি সত্য নয়। খাবার পর হাটা উচিত, তবে অবশ্যই সেটা খাবার শেষ করেই তাৎক্ষণিকভাবে নয়। কারণ এতে করে আমাদের শরীরের ডাইজেস্টিভ সিস্টেম খাবার থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি শোষনে অক্ষম হয়ে পড়ে।

দাঁত ব্যথার ১০টি প্রাকৃতিক নিরাময়

দাঁত ব্যাথা কি?
মানুষের উপরের ও নিচের চোয়ালের দুই সারিতে মোট ৩২টি দাঁত থাকে। এর যেকোনো একটিতে অথবা মাঢ়ি বা চোয়ালে ব্যথা হলে তাকে দাঁত ব্যথা বলা হয়।

দাঁত ব্যাথার কারণঃ
দাঁত ব্যথার প্রধান কারণ হলো ডেন্টাল ক্যারিজ বা দাঁত ক্ষয় রোগ। দাঁত ক্ষয় রোগে সাধারণত দাঁতের কোনো অংশে গর্ত হয়ে যায় ও দাঁত ব্যথা করে। দাঁত ব্যথার অন্যান্য কারণগুলো হচ্ছে আক্কেল দাঁতের সমস্যা, মাঢ়িতে ইনফেকশন, পুঁজ হওয়া, আঘাতের কারণে দাঁতে ফাটল, ক্যারিজ ইত্যাদি।

দাঁত ব্যথার প্রাকৃতিক নিরাময়ঃ
দাঁত ব্যথা হলে ঘরেই আপনার ব্যথা কমিয়ে ফেলতে পারবেন। নিরাপদ প্রাকৃতিক ব্যথা নিরোধক দিয়ে দাঁত ব্যথা কিছুটা হলেও কমানো সম্ভব। আসুন দেখে নেয়া যাক প্রাকৃতিক উপায়ে দাঁত ব্যথা কমানোর উপায়গুলো।
  • গরম পানিতে লবণ মিশিয়ে কুলি করতে থাকুন যতক্ষণ সম্ভব। দাঁত ব্যথা কমে যাবে।
  • ভ্যানিলা ভিজিয়ে রাখা পানি তুলায় ভিজিয়ে দাঁতে ধরে রাখুন। দাঁত ব্যথা কমে আসবে।
  • আপেল সাইডার ভিনেগার তুলায় লাগিয়ে দাঁতের সাথে ধরে রাখলে ব্যথা কমে আসে।
  • আক্রান্ত দাঁত দিয়ে একটুকরো আদা চিবিয়ে নিন।
  • রসুন থেঁতো করে লবণ দিয়ে দাঁতের গোঁড়ায় চেপে রাখুন। দাঁত ব্যাথায় আরাম পাবেন।
  • চিনি ও দুধ ছাড়া গরম চায়ের লিকার খান। দাঁত ব্যথায় সাময়িক আরাম পাবেন।
  • লবঙ্গের তেলের সাথে এক চিমটি গোলমরিচ গুড়ো মিশিয়ে ব্যথাযুক্ত দাঁতের গোড়ায় লাগাতে হয়। এতে বেশ ভালো ফল পাওয়া যায়।
  • সরিষার তেলের সাথে এক চিমটি লবন মিশিয়ে আক্রান্ত দাঁতের গোড়ায় ডলে দিতে হয়। এতে দাঁত ব্যথা কমে যায়।
  • কয়েক ফোঁটা লেবুর রস আক্রান্ত দাঁতে দিলে দাঁতব্যথা কমানো যায়।
  • এক টুকরা তাজা পেঁয়াজ আক্রান্ত মাড়ি বা দাঁতে রেখে দাঁতব্যথা কমানো সম্ভব।
প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে দাঁত ব্রাশ করে ঘুমাতে যান। সকালের নাস্তার পরে আবার দাঁত ব্রাশ করুন। দাঁত থাকতে দাঁতের মূল্য না বুঝলে পরে আফসোস করতে হবে।

কিছু কুসংস্কার ও আধুনিক ভাবনা

জোড়া ডিম বা কলা খেলে যমজ বাচ্চা হয়ঃ
যমজ বাচ্চা হয় যখন কোন নারীর একই সময় দুটি ডিম্বাণু শুক্রাণু দ্বারা নিষিক্ত হয়। জোড়া ডিম বা জোড়া কলা প্রকৃতির নিয়মেই হয়ে থাকে, এদের মাঝে এমন কোন উপাদান থাকে না যা যমজ বাচ্চা হতে সাহায্য করবে। একটা সাধারণ কলা বা একটা সাধারণ ডিমে যা থাকে জোড়া কলা বা ডিমে তাই থাকে, শুধু একটার স্থানে দুটো একসাথে থাকে। তাই জোড়া ডিম বা কলাতে যমজ বাচা হয় না।

আনারস আর দুধ এক সাথে খাওয়া যায় নাঃ
এখন পর্যন্ত আনারস এবং দুধের মাঝে এমন কোন রাসায়নিক বিক্রিয়া খুঁজে পাওয়া যায়নি যার ফলে এদেরকে এক সাথে খেলে সেটা মানুষের জীবনহানি করবে। বর্তমানে অনেক খাবারেই দুধ ও আনারস একসাথে মেশানো হয় এবং সারা বিশ্বেই তা খাওয়া হয়। কাস্টার্ড নামক ডেজার্টে দুধের সাথে নানারকম ফল মেশানো হয় যার মাঝে আনারসও থাকে। কাস্টার্ড খেয়ে বিষক্রিয়ায় কেউ মারা গেছে বলে জানা যায় না।

চিনি বা মিষ্টি বেশি খেলে ডায়াবেটিস হয়ঃ
যারা ডায়াবেটিস রোগী তারা মিষ্টি বেশি খেলে রক্তে গ্লুকোজ বেড়ে যায় যা কমানো তাদের দেহের পক্ষে সহজসাধ্য হয় না কিন্তু যারা ডায়াবেটিক নন তাদের দেহ রক্তের অতিরিক্ত গ্লুকোজ ব্যবহার করে ফেলতে পারে, তাই তারা মিষ্টি বেশি খেলেও কোন সমস্যা নেই। শুধুমাত্র যারা ডায়াবেটিসে ভুগছেন বা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা আছে এমন ব্যক্তিদেরকে ডাক্তাররা মিষ্টি বা চিনি কম করে খেতে বলেন।

চিনি খেলে কৃমি হয়ঃ
কৃমি আমাদের দেহে বসবাসকারী পরজীবী যা সাধারণত অন্ত্র বা খাদ্যনালীতেই বাস করে। আমাদের শরীর থেকেই খাদ্য সংগ্রহ করে তারা বেঁচে থাকে। কৃমি আমাদের দেহে প্রবেশ করে অস্বাস্থ্যকর ভাবে রান্না ও পরিবেশিত খাবার খেলে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চললে। অপরিষ্কার খাবার, দূষিত পানি, ময়লা হাঁতে খাবার খেলে, খালি পায়ে মাটিতে হাঁটলে, মল ত্যাগের পরে হাত জীবাণুমুক্ত না করলে ইত্যাদি কারণে কৃমি আক্রান্ত করতে পারে আমাদেরকে। অতিরিক্ত চিনি খেলে কৃমির বংশবৃদ্ধির কোন উপকার হয় না। এর সাথে চিনি বেশি খাওয়ার কোন সম্পর্ক নেই।

লবণ ভেজে খেলে প্রেসার বাড়ে নাঃ
আমাদের উচ্চ-রক্তচাপের রোগীদের মাঝে এই ধারণাটি প্রচলিত আছে যে খাবারের সময় পাতে লবণ খেতে হলে তা ভেজে খেতে হবে, তাহলে নাকি রক্তচাপ বাড়বে না। অতিরিক্ত লবণ রক্তচাপ বৃদ্ধি করে। লবণের রাসায়নিক পরিবর্তন না হলে লবণ লবণই থাকবে, সেটা ভেজে বা না ভেজে যেভাবেই খাওয়া হোক না কেন সেই লবণই থাকবে কারণ লবণের রাসায়নিক পরিবর্তন করার কোন সামর্থ্য এতো অল্প তাপমাত্রায় সম্ভব না। ডাক্তাররা উপদেশ হিসেবে বলেন কাঁচা লবণ খাবেন না। কাঁচা লবণ বলতে বোঝানো হয় পাতে লবণ খাওয়া। কাঁচা লবণকে ভেজে পাকিয়ে ফেলে আসলে কোন লাভই হবে না।

গরমে কৃমির ওষুধ খাওয়া যায় নাঃ
কৃমিনাশক যেসব ওষুধ বর্তমানে বাজারে চালু আছে সেগুলো সবগুলোই অনেক কার্যকর এবং সহনশীল। গরমে কৃমির ওষুধ কাজ করে না অথবা গরমে কৃমির ওষুধ খেলে শরীর খারাপ করবে এটা ভুল ধারণা। সব পরিবেশেই আর সব তাপমাত্রায়ই কৃমির ওষুধ কাজ করবে।

টক খেলে কাটা সারে নাঃ
কোথাও কেটে গেলে এদেশে অনেকে টক খেতে মানা করেন, বলেন টক খেলে নাকি কাটা সারতে দেরি হয়। একথাটি সম্পূর্ণরূপেই ভুল। প্রকৃতপক্ষে টক খেলে কাঁটা আরো দ্রুত সারে। সাধারণত টক ফল যেমন লেবু, কামরাঙ্গা, কাঁচা আম ইত্যাদি টক ফলে থাকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি। ভিটামিন সি কাটা বা ক্ষতস্থানের আঘাত সারাতে প্রয়োজনীয় কোলাজেন তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই কেটে গেলে টক কম না খেয়ে বেশি করে খেতে হবে দ্রুত ক্ষতস্থান পূরণের জন্য।

গর্ভকালীন অবস্থা নিয়ে এখনও বেশ কিছু কুসংস্কার রয়েছে যেমনঃ
  • অনেক মায়ের মধ্যে ধারণা গর্ভবতী অবস্থায় বেশি খাবার গ্রহণ করলে বাচ্চা মায়ের গর্ভে বড় হয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে স্বাভাবিক প্রসব হয় না, সিজার করতে হয়। মা যতোই খাবার খান না কেন একজন সুস্থ বাচ্চা কখনো খুব বড় হবে না, স্রষ্টার নিয়মেই তার বৃদ্ধি এমনভাবে নিয়ন্ত্রিত হবে যে সে মাত্রাতিরিক্ত বৃদ্ধি পাবে না, যেসব মায়েদের ডায়াবেটিস থাকে বা প্রসবকালীন সময়ে ডায়াবেটিস হয় তাদের বাচ্চার আকার বড় হতে পারে তবে সবসময় না। এ কারণে বেশি খেলে বাচ্চা বড় হবে এটা ভুল ধারণা। অনেকে কম খেয়ে থাকেন বাচ্চা ছোট হবার জন্য যা খুব খারাপ আচরণ। কম খেলে বাচ্চা বাড়বে না, অপুষ্ট শিশু জন্ম নেবে এবং প্রসবকালীন ও প্রসব পরবর্তী নানা সমস্যায় পড়বে মা ও শিশু।
  • নারিকেল গ্রহণ করলে বাচ্চা অন্ধ হয়ঃ অর্থহীন একটি ধারণা, নারকেল উপাদেয় একটি ফল। নারকেল এ এমন কিছু নেই যা মানব চোখকে অন্ধ করে দেয়।
  • হিন্দু মায়েরা এ সময় মাছ-মাংস খাওয়া থেকে বিরত থাকেন। মাছ মাংস না খেলে বাচ্চা বাড়বে না, মা ও পুস্তিহীনতায় ভুগবে। অসুস্থ মা জন্ম দিবে অসুস্থ এক শিশু। তাই এ সময় মা ও বাচ্চার শরীর গঠনে মাছ মাংস খাওয়া দরকার।

এধরণের আরো অনেক কুসংস্কার রয়েছে আমাদের সমাজে। দায়িত্বশীলতার সঙ্গে নিজেদেরকে এগিয়ে আসতে হবে সমাজের এসব ভুল ধারণার মূলোৎপাটন করতে, তবেই আমরা পাবো সুস্থ্য একটি জাতি।

সুখি হওয়ার ১০টি টিপস


  1. সব কিছু স্বাভাবিক ভাবে নিন।
  2. নিজের কষ্টকে কখনো বড় করে দেখবেন না।
  3. নিজের কষ্টের সাথে অন্যের কষ্ট তুলনা করুন আশা করি কষ্ট থাকবে না।
  4. অপরকে ভালবাসুন মন থেকে। তাহলে তার কাছ থেকে অনেক কিছু জানতে পারবেন এতে করে আপনার কষ্ট কমে যাবে।
  5. নিজেকে কখনো অসুখী ভাববেন না। নিজেকে পৃথিবীর সবচেয়ে সুখি ভাবুন।
  6. নিজেকে কারো সাথে তুলনা করে ছোট করবেন না।
  7. নিজেকে কখনো অসফল ভাববেন না।
  8. কষ্ট লাগলে নদী, পাহাড় বা নিরিবিলি পার্কে একা একা বা কোন আপনজনকে নিয়া ঘুরতে যান।
  9. প্রয়োজনের বেশী, অর্থের পিছনে ছুটবেন না।
  10. "আপনিই পৃথিবীর সব থেকে সুখি মানুষ", এই সত্যকে বুকে ধারণ করুন।

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

ঘামের দুর্গন্ধ হলে


আশ্চর্য হলেও সত্যি যে আমাদের দেহের ঘাম আসলে গন্ধহীন। কিন্তু ত্বকে বাস করা নানা ব্যাকটেরিয়া এই ঘামের মধ্যে বংশবিস্তার করে ও দুর্গন্ধের সৃষ্টি করে। এই সমস্যা মোকাবিলার জন্য কিছু পদক্ষেপ অবশ্যই নেওয়া যায়।
  • প্রতিদিন গোসল করা উচিত। 
  • প্রয়োজনে বাইরে যাওয়ার আগে ও ফিরে এসে দুবারই গোসল করা যায়। 
  • গোসলের সময় খুব ভালো করে ত্বকের নানা ভাঁজ পরিষ্কার করতে হবে। কেননা যতক্ষণ না ব্যাকটেরিয়াগুলো ধুয়ে দূর করতে পারছেন ততক্ষণ গন্ধ পিছু ছাড়বে না। 
  • গোসলের পর খুব ভালো করে ত্বক শুষ্ক করতে হবে। শুষ্ক ত্বকে জীবাণুর বৃদ্ধি কম হয়। 
  • একই পোশাক কখনো না ধুয়ে ব্যবহার করবেন না। 
  • ব্যবহৃত তোয়ালে সপ্তাহে এক বা দুবার ধুয়ে ফেলুন। 
  • ওয়ার্ডরোব পরিচ্ছন্ন রাখুন ও প্রয়োজনে সুগন্ধি ব্যবহার করুন। 
  • প্রতিদিন বা দরকার হলে দিনে দুবার মোজা পরিবর্তন করুন। 
  • জুতা পরিষ্কার রাখুন বা এতে ডিওডোরেন্ট পাউডার ব্যবহার করুন। 
  • দুর্গন্ধের সঙ্গে খাবারেরও সম্পর্ক আছে। পেঁয়াজ, রসুন ও অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাবার এই সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।

বয়স লুকানোর টিপস্!

বয়স লুকাতে চান? আপনার জন্য কিছু টিপস্।

  • সপ্তাহে তিন দিন রাতে ভালো মানের মধু খান ও চেহারায় মাখে ধুয়ে ফেলুন।
  • অবশ্যই নিয়মমাফিক পানি পান করুন।
  • অস্বাস্থ্যকর খাবার এড়িয়ে চলুন।
  • পছন্দের বা বিনোদনমূলক স্থানগুলো ভ্রমণ করুন।
  • ছলনা করেন না। ভালোবাসায় ছলনা আপনাকে অচিরেই বুড়িয়ে দেবে।
  • প্রেমিকা বা প্রেমিকের সঙ্গে বেশি সময় কাটান।
  • নিজের চেয়ে বয়স বেশি, এমন মানুষের সঙ্গে সময় কাটান বেশি বেশি।
  • ইতিবাচক চিন্তা করুন। নেতিবাচক চিন্তা চেহারায় বসয়ের ছাপ ফেলে।
  • চোয়াল খানিক এলিয়ে থাকতে দিন। মুখের ভারিক্কি ভাব দূর হয়ে যাবে।
  • শিরদাঁড়া সোজা রেখে দাঁড়িয়ে থাকার অভ্যাস করুন।
  • সুযোগ পেলে নাচুন।
  • বেশি বেশি মন খুলে হাসুন।
  • মন থেকে ভালোবাসুন বই, গাছ, আকাশ।
  • সবসময় উদ্যমী ও প্রাণবন্ত থাকুন।
  • নিয়ম করে ঘুমান।
  • বৃক্ষজাত খাবার বেশি খান।
  • মুটিয়ে যাবেন না কখনই। মুটিয়ে যাওয়া মানেই নিজেকে বয়সী করে তোলা।

২৮ আগস্ট, ২০১৩

১০টি ক্ষতিকারক খাদ্য উপাদান

বর্তমানের ব্যস্ত দুনিয়ায় আমরা ঘরের খাবারের চাইতে প্যাকেটজাত খাদ্যে বেশী অভ্যস্ত। কিন্তু আমাদের মধ্যে যেই অভ্যেস টা একেবারেই নেই তা হলে প্যাকেটের লেবেল পড়া এবং এর খাদ্য উপাদান গুলো জানা। বিদেশী খাবার দেখলে আমরা তো আরো লালায়িত হয়ে যাই এবং তার মান নিয়ে চিন্তাই করি না, কিন্তু বাস্তব চিত্র হলো যে বিদেশী অনেক খাদ্যেই ক্ষতিকারক খাদ্য উপাদান ব্যবহার করা হয়। এক বার দুই বার খেতে হয়তো সমস্যা নেই কিন্তু এইসব খাদ্য উপাদান যুক্ত খাবার নিয়মিত গ্রহণ আপনার মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। এই ক্ষতিকারক খাদ্য উপাদান সমন্ধে আপনাকে সতর্ক করতেই এই পোস্ট। 
  1. Monosodium Glutamate (MSG): এটিকে আমরা টেস্টিং সল্ট নামে চিনি। এটি একটি নিউরোটক্সিক কেমিকেল যা মস্তিষ্কের কোষ গুলোর ক্ষতি এমনকি এক সময় মৃত্যু পর্যন্ত ঘটায়। নিয়মিত গ্রহণে তা মস্তিষ্কের কোষের ক্ষতি করতে করতে এক সময় মারাত্মক নিরোলজিকাল ডিসঅর্ডার সৃষ্টি করে। তাছাড়া এটি ক্ষুধা বর্ধণের মাধ্যমে ওজন বৃদ্ধিতেও সহায়তা করে। 
  2. Aspartame: এটাকে আমরা ডায়বেটিক চিনি নামে চিনি। এটিও টেস্টিং সল্টের মতো নিউরোটক্সিক কেমিকেল। এটি খাওয়ার পর শরীরের ভিতর ভেঙ্গে ফরমিক এসিড ও ফরমাল্ডিহাইড(ফরমালিনের উপাদান) তৈরী করে। ফরমাল্ডিহাইড ক্যান্সার সৃষ্টির জন্য দায়ী।
  3. High Fructose Corn Syrup (HFCS): এটি ভুট্টো থেকে তৈরী এক ধরণের সিরাপ যা চিনির বিকল্প হিসেবে বিভিন্ন তৈরী খাবারে ব্যবহৃত হয়, যেমন ড্রিঙ্কস, কর্ন ফ্লেক্স, সালাদ ড্রেসিং, প্যাকেট সূপ, দই ইত্যাদি। এটি ওজন বৃদ্ধি ঘটায়, এবং ডায়বেটিস ও আর্থ্রাইটিস (বাত) হওয়ার প্রবণতা বাড়ায়। 
  4. Agave Nectar: এটি Agave নামক একধরণের ক্যকটাস গাছ থেকে তৈরী মিষ্টি সিরাপ যা চিনির বিকল্প হিসেবে তৈরী হয়। এটি লিভারে গিয়ে ফ্যাট এ পরিণত হয় এবং ফ্যাটি লিভার নামক একটি রোগ সৃষ্টির জন্য দায়ী। এটি প্রেশার ও কোলেস্টেরল বাড়ায় এবং ডায়বেটিস ও উচ্চ রক্তচাপে সহায়তা করে। 
  5. Artificial Food Coloring: এগুলো মূলত তৈরী হয় আলকাতরা থেকে। আরটিফিশিয়াল ফুড কালার এর ক্ষতিকারক দিকের কারণে অনেক গুলোই ইতমধ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়েছে। যেই ৯ টি হয়নি, তার সবগুলোই ক্যান্সার সৃষ্টি এবং বাচ্চাদের অতি চঞ্চলতা ও মনযোগের অভাবের পিছনে দায়ী। 
  6. Butylated hydroxyanisole (BHA) and butylated hydrozyttoluene (BHT): এগুলো মূলত প্রিজারভেটিভ হিসেবে খাদ্যে ব্যবহৃত হয়। এ দুটোই International Agency for Research on Cancer এর মতে ক্যান্সার সৃষ্টির পিছনে দায়ী।
  7. Sodium Nitrite and Sodium Nitrate: এগুলো মূলত প্রিজারভেটিভ হিসেবে বোতলজাত মাংসে ব্যবহৃত হয়। মাংসে দেওয়ার পরে এটি nitrosamines এ পরিণত হয়, যা ক্যান্সার তৈরীতে সাহায্য করে। World Cancer Research Fund এর ২০০৭ সালে করা একটি গবেষনা অনুযায়ী, দৈনিক ১.৮ আউন্স nitrite যুক্ত মাংস খেলে ক্যান্সারের সম্ভাবনা ২০% বাড়ে।
  8. Potassium Bromate: এটি ব্রেড বা রোলের আয়তন বৃদ্ধিতে ব্যবহৃত হয়। তাছাড়া কিছু টুথপেস্ট ও মাউথ ওয়াশে এন্টিসেপটিক হিসেবেও যোগ করা হয়। ক্যান্সার তৈরীর পাশাপাশি এটি হরমোনাল ইমব্যালেন্স তৈরী করে।
  9. Recombinant Bovine Growth Hormone (rBGH): এটি একধরণের গ্রোথ হরমোন যা অতিরিক্ত গ্রহণে ব্রেস্ট ও কোলন ক্যান্সার হয়। তাছাড়া এটি এন্টিবায়োটিক রেসিস্টেন্স ও মেয়েদের মধ্যে অতি কম বয়সে বয়োঃপ্রাপ্তির জন্য দায়ী। বিদেশে তৈরী বেশির ভাগ দুগ্ধ জাত খাদ্যেই এটি পাবেন যদি না মাত্র প্যাকেটে লেখা থাকে –“No rGBH or rBST.”
  10. Refined Vegetable Oil: নানারকম রিফাইন্ড তেল বাজারে বিদ্যমান যেমন সয়াবিন, ক্যানোলা, সানফ্লাওয়ার, কর্ণ, পিনাট ইত্যদি। এগুলো তা তেল হিসেবে পাওয়া যায় ই তাছাড়াও বিস্কুট, চিপ্স ইত্যাদি নানা প্যাকেটজাত খাদ্য তৈরীতেও ব্যবহৃত হয়। রিফাইন্ড তেল গুলোতে একটি বিশেষ পদ্ধতিতে বীজ থেকে তেল বের করা হয়। এতে উচ্চ তাপমাত্রায় রাসায়নিক দ্রাবক ব্যবহার করা হয়। তার পরে আবার এতে ব্লীচ যোগ করা হয়। এর ফলে এর থেকে প্রাকৃতিক ভিটামিন ও মিনারেল নষ্ট হয়ে যায়। তাছাড়া এটি ফ্রি র্যা ডিকেল তৈরী করে বার্ধক্য আনয়নে দায়ী। তাছাড়া এতে অধিক পরিমানে ক্ষতিকারক ওমেগা-৬ ফ্যাটি এসিড থাকে যা তো একে ক্ষতিকারক পাশাপাশি আপনি খাদ্যের মাধ্যমে যে উপকারী ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড গ্রহণ করেন, তার গুন নষ্ট করে দেয়। এটি ডিএনএ তে ড্যামেজ ঘটায়, কোলেস্টেরল বাড়ায়, হার্টের রোগ ও ডায়বেটিস তৈরীতেও ভূমিকা রাখে।

২৫ আগস্ট, ২০১৩

পেটের চর্বি থেকে মুক্তি

  1. এক গ্লাস হালকা গরম পানিতে লেবু ও একটু লবণ দিয়ে শরবত তৈরি করে প্রতিদিন সকালে খাবেন।
  2. সকালে দুই বা তিন কোয়া কাঁচা রসুন খেতে হবে। লেবুর শরবত পান করার পরই এটি খেয়ে নিলে ভালো ফল পাওয়া যাবে। এ পদ্ধতিটি আপনার শরীরের ওজন কমানোর প্রক্রিয়াটি দ্বিগুণ গতিতে করবে। একই সঙ্গে আপনার শরীরের রক্ত সঞ্চালন হবে মসৃণ গতিতে।
  3. সকালের নাশতায় অন্য খাবারের পরিমাণটা কমিয়ে সেখানে স্থান করে দিতে হবে ফলের। প্রতিদিন সকালে এক বাটি ফল খেলে পেটে চর্বি জমার হাত থেকে অনেকটা রেহাই পাওয়া যাবে।
  4. পেটের চর্বি থেকে মুক্তি পেতে হলে পানির সঙ্গে করতে হবে বন্ধুত্ব। কেননা পানি আপনার শরীরের পরিপাক ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয় এবং শরীর থেকে ক্ষতিকর সব কিছু বের করে দিতে সাহায্য করে।
  5. সাদা চালের ভাত থেকে দূরে থাকুন। এর পরিবর্তে আটার তৈরি খাবার খেতে হবে।
  6. দারুচিনি, আদা, কাঁচা মরিচ দিয়ে রান্না করুন আপনার খাবার। এগুলো শরীরের রক্তে শর্করার মাত্রা কমিয়ে রাখতে সহায়তা করে।
  7. চিনিজাতীয় খাবার শরীরের বিভিন্ন অংশে চর্বি ভূমিকা রাখে, বিশেষ করে পেট ও ঊরুতে। পেটের চর্বি থেকে রেহাই পেতে হলে চিনি এবং চিনিজাতীয় খাবারের সঙ্গে শত্রুতা ছাড়া উপায় নেই।

কোমল পানীয় না খাই


পৃথিবীর ২১টি দেশে এক গ্লাস কোক বা পেপসির মধ্য মানুষের একটি দাঁত ডুবিয়ে রেখে দেখা গিয়েছে যে, ৭ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে দাঁতটি পানীয়ের মধ্যে সম্পূর্ণ গলে মিশে গিয়েছে। কোকের মধ্যে কীটনাশক মিশানো হয় এই কারণে যাতে, দীর্ঘ দিন বোতলে থাকলেও পানিতে কোন ব্যাকটেরিয়া, ফাঙ্গাস, কীট বা পোকা না জন্মাতে পারে। তাছাড়া পানিতে থাকা জু-প্লাঙ্কটন ও ফাইটা প্লাঙ্কটন বংশ বিস্তার করতে না পারে।

কোক বা ঐ জাতীয় পানীয় খেলে কি হয়?

  • নাড়ীর ভিতরের শ্লেষ্মা ঝিল্লী বা মিউকাস মেমব্রেণ পচে যায় বা নষ্ট হয়ে যায় !!
  • নাড়ীর সংকোচণ, সম্প্রসারণ ক্ষমতা কমে যায় এবং খাদ্য থেকে পুষ্টি শুষে নেয়ার ক্ষমতা কমে যায়।
  • হজম ক্ষমতা কমে যায়, বদ হজম, ফুড পয়জনিং, গ্যাস্ট্রিক, ক্ষুদামান্দ্য, ইত্যাদি অসুখ হয়।
  • স্থায়ী কোষ্ঠ কাঠিন্য হয়।
  • অনেকের শরীরের ওজন বেড়ে ওবেসিটি হয়ে যায।
  • শরীরে চর্বির/ কোলেস্টরেল এর পরিমাণ বেড়ে যায।
  • শরীরের ক্যালসিয়াম মলিউকুল গঠন প্রক্রিয়া দুর্বল হয়ে পড়ে, হাড় দুর্বল ও নরম হয়ে যায়।
  • নারীদের প্রজনন প্রক্রিয়ায় নতুন শিশুর হাড় গঠনে ক্যালসিয়ামের অভাব হয়, নতুন শিশু প্রয়োজনীয় ক্যালসিয়াম পায় না !

আসুন এসব ভয়াবহ কোমল পানীয় বর্জন তথা সকলের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি করি!

২৯ জুন, ২০১৩

রাগ নিয়ন্ত্রণের ১০টি কৌশল


রাগ নিয়ন্ত্রণে রাখার কোন বিকল্প নেই। মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্ক খারাপ হয়ে যেতে পারে যেসব কারণে তার মধ্যে রাগ অন্যতম। রাগ মুহূর্তেই বাড়িয়ে দিতে পারে দু'বন্ধুর মধ্যকার দূরত্ব। হঠাৎ করেই আপনাকে একা করে দিয়ে হারিয়ে যেতে পারে আপনার কাছের মানুষগুলো। আর তাই এই রাগকে রাখতে হবে নিয়ন্ত্রণে। অযথা রাগ না করে ঠান্ডা মাথায় ভাবলে অনেক সমস্যারই সমাধান করা যায় খুব সহজেই। মাত্র ১০টি পন্থা অবলম্বন করে আপনি শিখে নিতে পারেন আপনার এই রাগ নিয়ন্ত্রণের কৌশলগুলো—

  1. মনকে শান্ত রাখার চেষ্টাকরুন। এক থেকে দশ পর্যন্ত উল্টো করে গুনতে পারেন। তাহলে মস্তিস্ককে কিছুটা অন্যদিকে ব্যস্ত রাখা যাবে।
  2. হুট করে কোনো কথা বা কাজ করে বসবেন না, সময় নিন। প্রয়োজন হলে সেই মানুষটার সাথে কিছুক্ষণ কথা বন্ধ রাখুন অথবা রাগের কারণটি থেকে নিজের মনকে অন্যদিকে সরিয়ে নিন।
  3. যখন আপনি শান্ত হয়ে গেলেন, এবার আপনার রাগের কারণগুলো তার সামনে তুলে ধরুন। ততক্ষণে অপরজনের মাথাও ঠান্ডা হয়ে যাবে, সেভালোভাবে আপনার কথা বুঝতে পারবে।
  4. এক্সারসাইজ করতে পারেন, হাঁটাহাঁটি অথবা ওয়েট লিফটিং করতে পারেন।
  5. আপনি যখন রেগে আছেন স্বাভাবিকভাবেই আপনার মধ্যে নমনীয়তা কাজ করবে না, আর তাই হঠাৎ করে এমন কিছু কথা বলে ফেলতে পারেন যা অন্যের কষ্টের কারণ হতে পারে, তাই কোনো কথা না বলাই ভালো।
  6. যেকোনো সমস্যার সমাধান অবশ্যই আছে, একটু ঠান্ডামাথায় চিন্তা করলেই সেটা বের করা যায়।
  7. নিজেকে নিয়ে বেশি হিসাব করতে গেলে রাগ আরও বাড়বে। তাই তাত্ক্ষণিক ব্যাপারটা মেনে নিলে সমস্যা অনেকটা কমে যায়।
  8. টেনশনে সিগারেট জাতীয় কিছু খাওয়া ঠিক না, তাতে মনটা আরও বিক্ষিপ্ত হয়ে উঠে।
  9. টেনশন কমানোর জন্য খানিকটা হাসি-ঠাট্টা করা যেতে পারে, তাতে মনটা হালকা হয়ে যায়।
  10. এছাড়া মেডিটেশন করতে পারেন।

১৬ জুন, ২০১৩

রাতে ঘুম না এলে কি করবেন


সারা দিন কঠোর পরিশ্রম করেছেন। সকাল হলেই আবার ছুটতে হবে কাজে। কিন্তু ঘুম আসছে না কিছুতেই? কী করবেন তখন? এজন্য—

  • বাইরে থেকে ফিরে প্রথমেই গোসল সেরে নিন। সারা দিনের ক্লান্তি এক নিমিষে চলে যাবে।
  • সন্ধ্যার পরই চা-কফি খাওয়া বন্ধ করে দিন।
  • ঘুমোতে যাওয়ার বেশ কিছুক্ষণ আগে টিভি, কম্পিউটার বন্ধকরুন।
  • পরের দিনের কাজের পরিকল্পনা আগেইকরে ফেলুন, টেনশনে ঘুম নষ্ট হবে না।
  • ঘুমাতে যাওয়ার অন্তত দুই ঘণ্টা আগে রাতের খাবার খেয়ে নিন।
  • রাত ১০-১১টার মধ্যেই ঘুমোতে যান। এ সময় বিছানায় গেলে ভালো ঘুম হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
  • বিছানা আর শোবার ঘর যেন আরামদায়ক হয়। বেশি গরম বা বেশি ঠাণ্ডা যেন না হয় এবং সেখানে যেন বেশি আওয়াজ না হয়।
  • নিয়মিত এক্সারসাইজ করুন। হাঁটা বা সাঁতার কাটা শরীরের জন্য ভালো।
  • প্রিয় জীবনসঙ্গীর সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখুন, সারা দিনে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন বিষয় শেয়ার করুন।
  • চেষ্টা করুন দুশ্চিন্তা না করার।
  • সব ধরনের মাদক থেকে দূরে থাকুন।
  • বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া ঘুমের ওষুধ খাবেন না।
  • যদি ঘুম না আসে, জোর করে ঘুমানোর চেষ্টানা করে উঠে বই পড়ুন, টিভি দেখুন অথবা পছন্দের গান শুনুন।
  • সুযোগ পেলেও দিনে বেশি সময় ঘুমাবেন না।
  • ঘরে বেশি আলো ঢুকে যেন ঘুমে ব্যাঘাত না ঘটায় তা নিশ্চিত করুন। প্রয়োজনে ভারী পর্দা ব্যবহার করুন।
  • শোবার ঘরটি অযথা একগাদা জিনিস দিয়ে ভরে রাখবেন না।
  • বিশেষজ্ঞরা বলেন, একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির প্রতিদিন অন্ততছয় ঘণ্টা গভীর ঘুম হতে হবে। বন্ধুরা এত কিছু করার পরও যদি ঘুমের সমস্যা না যায়, তবে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

৮ জুন, ২০১৩

টুথপেস্টের ভিন্ন ব্যবহার

  • পেঁয়াজ বা এই ধরনের গন্ধযুক্ত কিছু কাটার পরে দুর্গন্ধ দূর করতে হাতে টুথপেস্ট মাখুন।
  • অনেক শখ করে কেনা আপনার লেদারের জুতাতে যখন কোন দাগ পড়ে,তখন হয়তো আপনার মনেও দাগ পড়ে।চিন্তা নেই, অল্প একটু টুথপেস্ট পারে তা দূর করতে।দাগ পড়া জায়গাতে টুথপেস্ট লাগান তারপর একটি ভেজা নরম কাপড় দিয়ে সেই জায়গাটি পরিষ্কার করে নিন। দেখবেন আপনার জুতা চকচক করছে।
  • বাচ্চাদের দুধ খাওয়ার বোতলে মানে ফিডারে টক গন্ধ হওয়া খুব স্বাভাবিক একটা ঘটনা।কিন্তু টুথপেস্ট থাকলে এই দুর্গন্ধ দূর করা এক নিমিষের ব্যাপার। ফিডারের ভেতরটা টুথপেস্ট দিয়ে খুব ভালভাবে ধুয়ে নিন। তবে অবশ্যই লক্ষ্য রাখবেন যাতে ফিডারের ভেতরে টুথপেস্ট জমা না থাকে।
  • আপনি যদি ব্রণের সমস্যায় ভুগেন,তাহলে আক্রান্ত স্থানে নন-জেল এবং নন হোয়াইটেনিং টুথপেস্ট লাগিয়ে রাতে ঘুমাতে যান। টুথপেস্ট ব্রণের জলীয় অংশ শুষে নেয় এবং তেল টেনে নেয়।তবে একটা ব্যাপারে সতর্ক না হলেই নয়।আপনার ত্বক টুথপেস্টের ব্যাপারে সংবেদনশীল হতে পারে।তাই প্রথমে ত্বকের ক্ষুদ্র অংশে প্রয়োগ করুন।
  • আপনি যদি কাঠের কাজ,স্কুবাডাইভিং বা স্কিং করেন তবে চশমার অস্বচ্ছ গ্লাস আপনার জন্য বিরক্তির সেই সাথে বিপদজনকও হয়ে উঠতে পারে। এই ধরনের সমস্যা এড়াতে গগলসের গ্লাসটি টুথপেস্ট দিয়ে ভালভাবে পরিষ্কার করে নিন।
  • এছাড়াও আপনার কিবোর্ডের(অবশ্যই কম্পিউটারের নয়,বাদ্যযন্ত্রের) উজ্ঝলতা বাড়াতে টুথপেস্ট ব্যবহার করতে পারেন
  • দাঁত ব্রাশ করা ছাড়া টুথপেস্ট আর যে কাজের জন্য সবচাইতে বেশি ব্যবহার করা হয়,তা হচ্ছে পোড়া যাওয়া জায়গায় ব্যবহার করা। এটি ফোস্কা পড়া প্রতিরোধ করে।
  • একইভাবে আপনি কোন বিষাক্ত পোকার কামড়ের শিকার হলে হলে আক্রান্ত জায়গায় টুথপেস্ট ব্যবহারে সুফল পেতে পারেন।
  • আপনার কাপড়ে যদি কালি কিংবা লিপিস্টিক(!) লাগে,তবে সেখানে একটু টুথপেস্ট লাগিয়ে নিন এবং কিছুক্ষণ পর ধুয়ে ফেলুন।
  • এমনকি আপনার সিডিতে যদি স্ক্র্যাচ পরে তবে হাল্কা একটু টুথপেস্ট লাগিয়ে নিন এবং ঘষুন।
  • হীরের গয়না ও পরিষ্কার করতে টুথব্রাশে একটু টুথপেস্ট লাগিয়ে নিন এবং তারপর হাল্কাভাবে ঘষে ধুয়ে নিন।দেখবেন কেমন ঝলমল করছে গয়না।একইভাবে আপনার ঘরের সিলভারের তৈজসপত্রের ঔজ্জল্য বাড়াতে পারেন
  • ছোট বাচ্চারা ঘরের দেওয়ালকে প্রায় সময় নিজের আঁকার ক্যানভাস মনে করে আর কপাল পোড়ে গৃহকর্তার! সেক্ষেত্রে আপনি একটুকরো আর্দ্র কাপড়ে টুথপেস্ট লাগিয়ে মুছে দেখতে পারেন।
  • মিষ্টি পানীয় অর্থাৎ কোক কিংবা সফট ড্রিঙ্কস কাচের উপর শুকিয়ে দাগের সৃষ্টি করে। ভেজা ন্যাকড়ায় টুথপেস্ট লাগিয়ে সেখানে ঘষুন। দেখবেন দাগ উধাও!
  • আপনার নখের কোনা পরিষ্কারে টুথপেস্টের চাইতে ভাল কিছু খুঁজে পাওয়া দুষ্কর!

৩১ মে, ২০১৩

১০টি অব্যর্থ ঘরোয়া চিকিৎসা

অসুখ বিসুখ তো প্রত্যেকদিন লেগে আছে কারো না কারো। সেই সাথে লেগে আছে কেটে-ছিলে যাওয়া, পুড়ে যাওয়ার মতন নানান রকম দুর্ঘটনা। সব কিছুর ক্ষেত্রে কি আর ডাক্তারের কাছে যাওয়া যায়? অনেক অসুখ বিসুখ আছে, যাদের চিকিৎসা শতভাগ ঘরোয়া ভাবেই সম্ভব। এবং অবশ্যই প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে। আসুন, জেনে নেয়া যাক ঘরোয়া চিকিৎসার কয়েকটি সহজ কৌশল।
  1. দাঁতের গোড়ায় ব্যথা? আক্রান্ত স্থানে সামান্য কাঁচা হলুদ বাটা লাগিয়ে দিন। মাড়ির ব্যথা নিরাময় হবে। হলুদ যে আয়ুর্বেদ গুণে ভরপুর একটি উপাদান, সে তো আর বলার অপেক্ষা রাখে না। 
  2. দাঁতের মাড়িতে ক্ষত হলে বা দাঁত থেকে রক্ত পড়লে ব্যবহার করতে পারেন জামের বিচি। পাকা জামের বিচি গুড়ো করে দাঁত মাজুন নিয়মিত। উপকার পাবেন, রক্ত পড়া বন্ধ হবে। 
  3. দই খুব ভাল “এন্টাসিড” হিসেবে কাজ করে। এসিডিটির সমস্যা শুরু হওয়া মাত্র কয়েক চামচ টক বা মিষ্টি দই খেয়ে নিন। উপশম হবে। 
  4. গলায় মাছের কাঁটা আটকে গেলে ভয় পাবেন না যেন। অর্ধেকটা লেবু নিয়ে রস চুষে খেয়ে ফেলুন, কাঁটা নরম হয়ে নেমে যাবে। 
  5. মচকে গিয়ে ব্যথা পেলে চালতা গাছের পাতা ও মূলের ছাল সমপরিমাণ একসঙ্গে বেটে নিন। তারপর হালকা গরম করে ব্যথার জায়গায় লাগান। উপকার পাবেন নিশ্চিত। 
  6. কাশি হলে দুই টুকরো দারুচিনি, একটি এলাচি, ২টি তেজপাতা, ২টি লবঙ্গ ও সামান্য চিনি পানিতে ফুটিয়ে ছেঁকে নিন। হালকা গরম অবস্থায় চুমুক দিয়ে দিয়ে পান করুন। কাশি ভালো না হয়ে কোনও উপায় নেই। 
  7. মাথা ব্যথা হলে কালোজিরা একটা পুটলির মধ্যে বেঁধে শুকতে থাকুন। শুনতে অদ্ভুত লাগছে? এটা কিন্তু আসলেই মাথা ব্যথা কমিয়ে দিবে। 
  8. চুলকানি জাতীয় চর্মরোগে নিমপাতা ও কাঁচা হলুদ একত্রে বেটে গোসলের আধা ঘন্টা পূর্বে লাগিয়ে রাখুন। শুকিয়ে গেলে ভালো করে গোসল করে ফেলুন। নিয়মিত করলে সেরে যাবে। 
  9. জিভে বা মুখে সাদা ঘা হলে পানির সঙ্গে কর্পূর গুলে দিনে ২ বার কুলি করুন। দ্রুত নিরাময় হবে। 
  10. ঘুম ভাল হওয়ার জন্য ডালিমের রসের সঙ্গে ঘৃতকুমারীর শাঁস মিশিয়ে খেতে পারেন নিয়মিত, ঘুমাবার ঠিক পূর্বে।

২০ এপ্রিল, ২০১৩

কলার খোসা, ২ মিনিটে দাঁত সাদা

অতীতকালে মানুষের দাঁত থাকতো হলদেটে আর দাগে ভরা? মোটেই না। মানুষের কাছে তখন ছিল হরেক রকম ঘরোয়া টিপস। আর তেমনই একটা হচ্ছে কলার খোসা দিয়ে দাঁত সাদা করা।
ভাবছেন এও কি সম্ভব? কিংবা ভাবছেন - "যাহ, সব ভুয়া"... তাই না? কলার খোসা সত্যিকার অর্থেই বিজ্ঞান সম্মতভাবে আপনার দাঁত সাদা করতে সক্ষম। সুতরাং ভুলে যান দাঁতের ডাক্তারের কাছে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা খরচ করার ভাবনা, আর ঘরে বসেই নিজের দাঁত গুলোকে রাখুন ঝকঝকে। তবে হ্যাঁ, কাজটা করতে হবে সঠিক পদ্ধতিতে। 
কলার খোসায় আছে প্রচুর পরিমাণে খনিজ উপাদান। বিশেষ করে পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম আর ম্যাঙ্গানিজ। আর এরাই হচ্ছে দাঁতকে সাদা করে তুলবার প্রধান হাতিয়ার। এছাড়াও কলার খোসায় আছে প্রচুর ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি, যারা কিনা দাঁতকে মজবুত করে তোলার পাশাপাশি খনিজ উপাদান গুলো শোষণ করতেও সহায়তা করে। কলার খোসা নিঃসন্দেহে সাদা করে তুলবে আপনার দাঁত, তবে ব্যবহার করতে হবে সঠিক পদ্ধতিতে।

জেনে নিন বিস্তারিত পদ্ধতিঃ
  1. প্রথমেই বেছে নিন সঠিক কলা। দাঁত সাদা করার জন্য ঠিক ভাবে পাকা কলা হওয়া জরুরী। খুব বেশি পাকাও নয়, খুব বেশি কাঁচাও নয়। এমন কলা বেছে নিন যারা কিনা এখন নিচের দিকে একটু একটু সবুজ। কেননা এই ধরনের কলায় পটাশিয়াম থাকে উচ্চ মাত্রায়। আর এই পটাশিয়ামই দাঁত সাদা করার দায়িত্ব নেবে।
  2. কলা উলটো করে ছিলে নিন। হ্যাঁ, যেভাবে আপনি ছিলে থাকেন কলা ঠিক তার উলটো দিক থেকে ছিলে নিন। দেখবেন যে কলার গায়ে লম্বা লম্বা সুতার মতন আঁশ থাকে। উলটো করে ছিলে নিয়ে এই আঁশ গুলো থাকবে খোসার সাথেই।  
  3. খোসা থেকে চারকোনা করে দুটি টুকরো কেটে নিন। আপনার সুবিধা মতন আকারেই কেটে নিন। চাইলে এই কাটা খোসা ফ্রিজেও সংরক্ষণ করতে পারেন।
  4. এবার সকালে দাঁত ব্রাশ করবার পূর্বে এই কলার খোসার ভেতরের অংশটি দিয়ে আপনার দাঁত খুব ভাল করে ঘষুন। প্রথম টুকরোটি দিয়ে পুরো এক মিনিট ঘষুন। তারপর সেটা বদলে দ্বিতীয় টুকরোটি দিয়ে আরও এক মিনিট। অর্থাৎ পুরো দুই মিনিট দাঁতকে ঘষুন। দাঁতের প্রত্যেকটি অংশে যেন পৌছায় এমন ভাবে ঘষতে হবে। 
  5. দাঁত ঘষা হলে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন। ১৫ থেকে ২০ মিনিট করতে পারলে ভালো। এই সময়ে পানি বা অন্য কিছু খাবেন না, কিংবা কুলি করবেন না। সময়টা পেরিয়ে গেলে আপনার নিয়মিত ব্যবহারের টুথ পেস্ট দিয়ে দাঁত মেজে নিন।

এবার আয়নায় তাকিয়ে দেখুন তো, লাগছে না দাঁত একটু বেশি পরিষ্কার? ৪/৫ দিন এমন করার পরেই দেখবেন আগের চাইতে অনেক বেশি উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে আপনার দাঁত। হলদে ভাব যেমন কমে গেছে, তেমনি কালো ছোপটাও অনেকটাই সরে গেছে। যারা ধূমপান বা মদ্যপান করেন, তাদের ক্ষেত্রেও কাজ করবে এই পদ্ধতি। তবে ব্যবহার করতে হবে বেশ দীর্ঘদিন। এবং সঠিক নিয়েম মেনে। 

মনে রাখতে হবে যে:
  • এটা কোনও ম্যাজিক নয়। তাই ভালো ফল পেতে নিয়ম মেনে ব্যবহার করতে হবে।
  • অবশ্যই কমপক্ষে ২ মিনিট ঘষতে হবে। এই সময়টা জরুরি। বেশি ঘষলে আরও ভালো।
  • ঘষার পর অবশ্যই সময় দিতে হবে খনিজ গুলো দাঁতে শোষিত হবার। 
  • যাদের দাঁত মদ্যপান, ধূমপান বা অসুস্থতার কারণে হলুদ তাদের ক্ষেত্রে একটু সময় লাগবে।
  • কলার খোসায় প্রচুর পরিমাণে চিনি থাকে। তাই অবশ্যই দাঁত খুব ভালভাবে মেজে নিতে হবে। এবং এই কারণেই দিনে ১ বারের বেশি ব্যবহার করা যাবে না।
  • যাদের দাঁত খুব একটা বেশি হলুদ নয়, তারা সপ্তাহে একবার ব্যবহার করুন। 

১৯ এপ্রিল, ২০১৩

খাওয়া দাওয়ার ১২ নিয়ম : মানলে ভালো


 
  1. দুপুরে পেট ভরে ভাত খাওয়াটা ঠিক নয়। সকালে ভারী খাবার খেতে হবে। কেননা, এর পরে আমরা কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ি। দুপুরের দিকে হালকা খাবার খেতে হবে। আর রাতের বেলায় মাঝামাঝি খাবার খেতে হবে। রাতের বেলায় সাধারণত ঘুমানোর দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা আগে খাবার খেতে হবে।
  2. আমরা অনেক সময় ব্যায়াম করার ঠিক আগে খাই বা খেয়ে উঠেই হাঁটাহাঁটি শুরু করি। কিন্তু যেকোনো বেলায়ই খাবার খাওয়ার পরপরই হাঁটা ঠিক নয়।
  3. খাবার খেতে খেতে বেশি পানি খেলে হজমে সমস্যা হয়। খাওয়ার মাঝে বেশি পানি খেলে ঠিকমতো খাবার হজম হয় না।
  4. প্রচলিত আছে যে শরীরে কাটা-ছেঁড়ার পর টক খাওয়া যাবে না। টক খেলে ক্ষত বাড়বে, সেটা ঠিক নয়। বরং এ সময়ে ভিটামিন সি খাওয়ার প্রয়োজনটা পড়ে বেশি, তাই এ সময়ে টক খাওয়াটা ক্ষতিকর নয়।
  5. ফল খাওয়ার পরে পানি খাওয়া উচিত নয়। এ কথাটা ঠিক। কারণ, ফল খাওয়ার পর এটা হজম হতে সময় লাগে। আর হজমে যেন অসুবিধা না হয়, সে জন্য যেকোনো ফল খাওয়ার পর পানি না খাওয়াটা ভালো।
  6. সকালের খাবারের পরই চা পান করা ঠিক নয়। ভরপেট সকালের নাশতা খাওয়ার পরে চা খেলে কিডনিতে সমস্যা হয়। নাশতা খাবার ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর চা পান করা উচিত।
  7. চিংড়ি মাছ খেলে কোলেস্টেরল বাড়ে মনে করা হয়। সে জন্য অনেকে বাচ্চাদেরও চিংড়ি মাছ খেতে দেন না। কিন্তু বাচ্চাদের জন্য চিংড়ি মাছটা খাওয়া দরকার। আর বড়দের, যাদের কোলেস্টেরলের মাত্রা স্বাভাবিক আছে, তাদের চিংড়ি মাছ খেলে কোনো সমস্যা হয় না। কিন্তু সমস্যা হয় কোলেস্টেরলের মাত্রা যাদের বেশি, তাদের।
  8. ডায়েট করা মানেই অনেকেই মনে করেন ভারী খাবার কিংবা ফাস্টফুড একদম খাওয়া যাবে না। এটা ঠিক নয়। ভারী খাবার বা ফাস্টফুডে যেহেতু ক্যালরি বেশি থাকে, তাই এসব খাওয়ার ছয় ঘণ্টার মধ্যে অন্য কোনো ক্যালরি বেশি খাবার খাওয়া যাবে না। তবে সালাদ, ফল—এগুলো খাওয়া যাবে।
  9. ভারী খাবার খেয়ে অনেকে শুয়ে থাকতে পছন্দ করেন। কিন্তু এটা কখনো ঠিক নয়। ভারী খাবার খেয়ে কখনো শুয়ে-বসে কাটানো যাবে না। বরং হাঁটাচলা করতে হবে।
  10. স্ন্যাকস-জাতীয় খাবার খাওয়ার পর মূল খাবারে কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ কমিয়ে আনতে হবে।
  11. রাতে সাধারণত শাক কিংবা করলা খেতে নিষেধ করা হয়। এটা ঠিক নয়। রাতে ঘুমানোর দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা আগে খাবার খেয়ে হাঁটাচলা করলে শাক বা করলা হজম হতে সমস্যা হয় না।
  12. ঘুমানোর আগে আমরা অনেকে ইসবগুলের ভুসি খেয়ে থাকি। ইসুবগুলের ভুসি রাতের খাবারের পরে অনেকক্ষণ ভিজিয়ে না রেখে পানি দিয়ে গুলিয়ে সঙ্গে সঙ্গে খেয়ে ফেলতে হবে।

১৮ এপ্রিল, ২০১৩

পায়ের যত্ন


প্রখর রোদ, ঘাম এবং ধুলোবালিতে ত্বকের অবস্থা নাজুক। এসময়ে মুখের মতো পায়ের ত্বকও বাড়তি যত্ন চায়। জানিয়ে দিচ্ছি গরমে পায়ের যত্নের সাত-সতেরো।

গরমে পা ঘামে তাই পায়ের ত্বক ভাল রাখার সব থেকে ভাল উপায় বারবার পা ধোয়া। স্ক্র্যাবার কোমল সাবান দিয়ে নিয়মিত পা পরিষ্কার করুন। খোলামেলা জুতা পরুন।

প্রতিদিন বাড়ি ফিরে হালকা গরম পানিতে একচিমটি লবন দিয়ে ১৫ মিনিট পা ভিজিয়ে রাখুন। এতে পায়ের চামড়া মসৃণ থাকবে এবং রক্ত চলাচলও ভাল হবে।

পায়ের দুর্গন্ধ দুর করতে বিশেষ ফুট মাস্ক: ৬ চা-চামচ নারকেলের দুধের সঙ্গে ১চা-চামচ লবঙ্গগুড়ো, ১চা-চামচ আদাবাটা, ৫/৬ ফোটা ল্যাভেন্ডার অয়েল এবং একমুঠো গোলাপের পাপড়ি কিংবা গোলাপ জল মিশিয়ে পায়ে লাগান।

গরমে ক্লান্ত হয়ে বাড়ি ফেরার পরে পা দুটোকে একটু স্বস্তি দিতে পাতিলেবুর রস দেওয়া বরফপানিতে দুটো পেপার টাওয়েল পায়ে জড়িয়ে রাখুন। দেখবেন আরামের সঙ্গে সঙ্গে ঘামের দুর্গন্ধও দূর হবে।

গরমে এক নজরে:
  • যখনই বেরোবেন সানস্ক্রিন লাগাতে ভুলবেন না।
  • প্রচুর পানি পান করুন। এতে ত্বকের আদ্রতা বজায় থাকে।
  • সুতি পোশাক ব্যবহার করুন।
  • রোদে বেরুলেই সানগ্লাস, সানস্ক্রিন ও ছাতা ব্যবহার করুন।
  • অয়েল ফ্রি ক্রিম ব্যবহার করুন।

মুখে কালো ছোপ দাগ

 
  • ২ চামচ বেসন,১ চিমটে হলুদ গুড়া,১ চামচ চন্দন গুড়া এবং ১ চামচ কমলার খোসাবাটা একসঙ্গে মিশিয়ে পেষ্ট তৈরী করুন।এবার এটা মুখে,ঘাড়ে লাগিয়ে রেখে ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর মুখ ধুয়ে ফালুন।
  • একটি ছোট আকারের আপেল কেটে এটা মুখে,ঘাড়ে,গলায় লাগিয়ে ৪ মিনিট পর ঠান্ডা পানিতে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ২ থেকে ৩ বার।
  • আপেল ও কমলার খোসা এক সাথে বেটে এর সংগে কাঁচা দুধ,ডিমের সাদা অংশ ও কমলা রস মেশান।এবার মিশ্রনটা ত্বকে ২৫ থেকে ৩০ মিনিট লাগিয়ে রেখে ধুয়ে ফেলুন।
 
 
 
 
 

ত্বকের সৌন্দর্যের জন্য ১০টি খাবার!

  1. তরমুজ: ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখে এবং চোখের নিচে কালো দাগ দূর করে।
  2. আনারস: ত্বকের ছোপছোপ দাগ দূর করে।
  3. চকলেট: এর কোকোতে থাকা পলিফেনল ত্বকের ক্ষত ও দাগ দূর করে।
  4. গরম মশলা: ত্বকের সুরক্ষা প্রাচীর তৈরি করে।
  5. আঙ্গুর: এর এন্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকে ফ্রি রেডিক্যাল থেকে মুক্ত রাখে।
  6. ব্রোকলি: এর ভিটামিন-কে চোখের নিচের কালো দাগ দূর করে।
  7. সূর্যমুখী তেল: এর লিনোলেইক এসিড আর্দ্রতা ধরে রাখে।
  8. পেস্তা বাদাম: শুষ্ক ত্বকে এর ভিটামিন-ই আর্দ্রতা ফিরিয়ে আনে।
  9. দুধ: এর ভিটামিন-ডি ত্বকের মসৃণতা বাড়ায় এবং বলিরেখা দূর করে।
  10. গাজর: যাদের তৈলাক্ত ত্বক গাজরের ভিটামিন-এ তাদের ত্বকে তেল উৎপাদন কমিয়ে দেয়।

১৭ এপ্রিল, ২০১৩

গর্ভাবস্থায়ও সুন্দর ত্বক


মা, পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর শব্দ। আর মা হওয়ার মাধ্যমেই একজন নারীর নারী জীবন পূর্ণতা পায়। মাতৃত্বের আনন্দ সীমাহীন। তবে মা হওয়ার অনুভূতি পেতে গর্ভাবস্থার সময়গুলো পার করা সত্যিই কঠিন।

গর্ভবতী মায়ের বেশিরভাগ সময়ই শরীরে নানা ধরনের পরিবর্তন হতে থাকে। শারীরিক এবং মানসিকভাবে পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ত্বকেও দেখা দেয় অনেক সমস্যা। আর অসুস্থ থাকার ফলে অনেকেই ঠিকমত ত্বকের যত্ন নেন না।
গর্ভাবস্থায় মুখের ত্বক তৈলাক্ত হয়ে যায়, ফলে মুখে ব্রণ হয়, ত্বকে টান পড়ায় পেট, পায়ের অনেক অংশ ফেটে যায়। মুখে গলায় ও ঘাড়ে কালো দাগ হতে পারে। তাই এ সময় প্রয়োজন হয় বিশেষ যত্ন।

যেহেতু শরীরে নানা ধরনের সমস্যা হয় আর চেহারায়ও তার ছাপ পড়ে, এজন্য গর্ভাবস্থায় থাকতে হবে সব সময় পরিপাটি, একটু গোছালোভাবে এবং অবশ্যই পরিস্কার পরিচ্ছন্ন। আরও যা করতে হবে:
  • ত্বক পরিস্কার রাখতে প্রতিদিন ক্লিনজার ব্যবহার করুন
  • স্ক্রাবার দিয়েও নিয়মিতভাবে ত্বক পরিস্কার করুন
  • ত্বক মসৃণ রাখতে ময়শ্চারাইজার ক্রিম লাগান
  • পানি শরীরের দূষিত পদার্থকে বাইরে বের করে দেয়, ত্বককে পরিস্কার রাখতে প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করুন
  • এ সময় ত্বক খুব সংবেদনশীল হয়, তাই বাইরে গেলে অথবা রান্না করার সময় সানস্কিন লোশন ব্যবহার করুন
  • গর্ভধারণের প্রথম থেকেই নিয়মিত অলিভ ওয়েল ব্যবহার করুন।
  • শরীর এবং মন ভাল রাখতে বাইরে ঘুরতে যান।
  • হালকা কিছু ব্যায়াম করুন
  • নিয়মিত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ মত চলতে হবে।
মনে রাখতে হবে, গর্ভকালীন সময়ের ত্বকের এই সমস্যাগুলো কিন্তু কোনো অসুখ নয়। বাচ্চা হওয়ার পর এগুলো এমনিতেই ঠিক হয়ে যায়।
সব সময় হাসিখুশি থাকুন। পরিবারের সবার সঙ্গে ভাল সময় কাটান। সুন্দর থেকে গর্ভকালীন সময়টি উপভোগ করুন।

ব্যায়ামের সঠিক সময়

আমরা আগের তুলনায় নিজেদের স্বাস্থ্য, সুস্থতা এবং সুন্দর ফিগারের বিষয়ে অনেক বেশি সচেতন। আমরা জানি সু-স্বাস্থ্যের জন্য নিয়মিত ব্যায়াম করার কোনো বিকল্প নেই। তবে ব্যস্ততা আমাদের জীবনে এভাবে জড়িয়ে রয়েছে যে মাত্র একঘণ্টা সময় খুঁজে বের করাও কঠিন।

সকালে অফিসের জন্য অনেকেই ব্যায়াম করার সুযোগ পাই না। অফিস থেকে ফিরতে সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত। বাড়ি ফিরে আবার কত কাজ...ব্যায়াম করার সময় নেই। জানি এইতো বলবেন, কিন্তু সুস্থ থাকতে হলে কিছুটা সময় বের করতেই হবে।

কীভাবে? জেনে নিন:


সকালঃ
অনেকে ঘুম থেকে উঠে বিছানায় বসেই ব্যায়াম শুরু করেন। তবে এসময় ভারী ব্যায়াম না করাই ভালো। কারণ এক্সারসাইজের জন্য শরীরে যথেষ্ট পরিমানে এনার্জি থাকা প্রয়োজন
  • সময়ের অভাব থাকলে ঘুম থেকে ওঠার আধ ঘণ্টা পর হালকা জগিং বা মর্নিং ওয়ার্ক করুন
  • ঘুম থেকে ওঠার পর ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করে কয়েক ঘণ্টা পর ব্যায়াম করুন
  • মনে রাখবেন কখনোই খালি পেটে ব্যায়াম করা যাবে না
বিকেলঃ
ব্যায়াম করার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সময় হচ্ছে দুপুরের পর বিকেলে। মানে ঘুম থেকে ওঠার ৬ ঘণ্টা পর এবং ১২ ঘণ্টার মধ্যে
  • যাদের ভারী এক্সারসাইজের পরিকল্পনা রয়েছে তারা দিনের বেলার যেকোনো একটি সময় বেছে নিন
  • লাঞ্চ করার পর বসে না থেকে হালকা হাঁটুন।
সন্ধ্যাঃ
  • বাড়ি ফেরার পথে কিছুটা পথ হেঁটেই আসুন।
  • হাঁটার সময় খেয়াল রাখবেন যেন ১০ মিনিটে ১ কিলোমিটার পথ যেতে পারেন
  • সন্ধ্যা বেলা এক্সারসাইজ করতে পারেন। কিন্তু সে ক্ষেত্রে অবশ্যই এক্সারসাইজ করার আগে রিল্যাক্স করুন। যাতে এক্সারসাইজ করার সময় ক্লান্ত ভাব না থাকে।
  • যোগব্যায়াম করার জন্য সন্ধ্যা সবচেয়ে উপযুক্ত সময়।
  • এসময় আপনি ট্রেডমিল বা সাইক্লিংও করতে পারেন
শারীরিক ক্ষমতা ও বয়স অনুযায়ী ব্যায়াম করবেন,  ব্যাক পেইন বা শ্বাসকষ্ট থাকলে সব ধরনের ব্যায়াম করতে পারবেন না। তাই ব্যায়াম শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ মতো খাবার এবং জীবন যাপনের সঠিক পদ্ধতিগুলোও মেনে চলুন।

গরমে শিশুর যত্ন


তীব্র গরমে জীবন অতিষ্ট। এই গরমে ছেলে বুড়ো সবার অবস্থাই খারাপ। যদিও একটু আধটু বৃষ্টি হয়, তবে গরম কমেনি। এসময়ে সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছে আমাদের পরিবারের ছোট্ট সোনামণিরা। গরমে ঘেমে শিশুদের ঠাণ্ডা লেগে যায়। শরীরে অনেক সময় র‌্যাশ বের হয়, ঘামাচি হয়। শিশুদের কিছু অসুস্থতার সাথে তাদের মেজাজও খিটটিটে হয়ে যায়। গরমে শিশুদের সুস্থ রাখতে প্রয়োজন বাড়তি যত্ন।

জেনে নিন সোনামণিকে সুস্থ রাখতে প্রয়োজনীয় কিছু পরামর্শ:

  • শিশুকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন
  • নিয়মিত সাবান দিয়ে গোসল করান
  • গোসলের পর শিশুর শরীর ভালো করে মুছে পাউডার দিন
  • শিশু ঘামাচির উপদ্রব থেকে মুক্তি পাবে
  • গরমে শিশুর খাবার নির্বাচনে সচেতন হতে হবে। শিশুকে পুষ্টিকর এবং শরীরকে ঠাণ্ডা রাখে এমন খাবার দিতে হবে
  • অন্যান্য খাবারের সঙ্গে গরমে শিশুকে প্রচুর পরিমাণে পানি ও ফলের জুস খাওয়ান
  • দুঃসহ গরমে শিশুর দুর্বলতা কাটাতে মাঝে মাঝে খাওয়ার স্যালাইন খেতে দিন
  • সুতি পাতলা কাপড়ের নরম পোশাক পরান
  • বাইরের গরমে শিশুকে যতোটা সম্ভব কম বের করুন
  • তাকে ধুলাবালি থেকে দূরে রাখুন
  • শিশু ঘেমে গেলে তার ঘাম মুছে দিতে হবে
  • শরীরে ঘাম শুকিয়ে গেলে শিশুর ঠাণ্ডা লেগে জ্বর হতে পারে
  • অনেক সময় জ্বর অল্পদিনে এমনিতেই সেরে যায়
  • কিন্তু বেশি দিন গড়ালে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ মতো ব্যবস্থা নিন
  • গরমের সময় শিশুর চুল ছোট করে ছেঁটে রাখুন
  • বড় চুল শুকাতে সময় লাগে, আর ঘামও বেশি হয়
  • শিশুর যেন পর্যাপ্ত ঘুম হয় সেদিকেও লক্ষ রাখতে হবে
  • ঘরে ফ্যান বা এসির তাপমাত্রা শিশু যতটায় স্বস্তিবোধ করে অতটুকুই রাখুন।
  • শিশুর যত্ন নিন। শিশুর অসুস্থতার দুঃচিন্তামুক্ত থাকুন।

১৬ এপ্রিল, ২০১৩

শুদ্ধতার জন্য

  • বাচ্চাদের শেখাবেন তারা যেন সকালে উঠে যার যার বালিশ, চাদর ইত্যাদি আলমারিতে তুলে রাখে। 
  • ঝাঁরপোছ, ঝুলঝাড়ু দিয়ে ঘর পরিষ্কার করুন রোজ । টেবিল, চেয়ার, সোফায় জমা ধূলো ঝেড়ে ফেলুন। 
  • রোজকার বাড়িতে পরার কাপড় আলাদা রাখুন। ইস্ত্রি করা জামাকাপড় আলাদা রাখুন। ইস্ত্রি হয়ে গেলে ঠিক জায়গায় তুলে রাখুন। 
  • আচার, লবণ প্রভৃতি টেবিলে আলাদা আলাদা জারে রাখুন। 
  • গোসল করার এবং কাপড় ধোয়ার সাবানের টুকরা একসঙ্গে করে পানির মধ্যে ফুটিয়ে নিন। মিশ্রণটি একটি প্লাস্টিকের বোতলে ঢেলে রাখুন। 
  • কুকারে মাঝে মাঝে লেবুর একটা টুকরা ফেলে পানি দিয়ে ফুটাতে থাকুন এতে কুকারের চমক ফিরে আসবে। 
  • মশলা, চিনি, চা পাতার কৌটা ব্যবহারের পর অল্প ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে রাখুন। 
  • ময়লার বালতিতে প্রথমে একটি পলিথিন ব্যাগ রাখুন। তার মধ্যে ময়লা ফেলুন। ঢাকনা যুক্ত বালতি হলেই ভাল, তাতে দুর্গন্ধ ছড়াবে না। 
  • সর্বদা ফ্রিজে বোতল মুছে তবে রাখবেন। 
  • ডাস্টিং এর জন্য ফ্লানেলের কাপড় ব্যবহার করুন। 
  • চাদর, বালিশের কাভার, সোফা কাভার সপ্তাহে একবার অবশ্যই বদলাবেন। প্রত্যেক সপ্তাহে অথবা পনেরো দিন অন্তর ঘরের পাখা পরিষ্কার করবেন। 
  • মোজাইক করা মেঝে মোছার সময় পানিতে কয়েক ফোঁটা কেরোসিন তেল ঢেলে মুছলে মেঝে চকচক করবে। 
  • মেঝেতে টাইলস থাকলে অল্প ব্লিচিং পাউডার দিয়ে নাইলন ব্রাশ দিয়ে রগড়ালে মেঝে পরিষ্কার হবে। এবার গরম পানি ঢেলে শুকনো করে মুছে নিতে হবে।

ঝলমলে চুল পেতে


সুন্দর চুল সবার ভালো লাগে। কিন্তু অযত্ন আর অবহেলায় চুলের উজ্জ্বলতা কমে যায়। হয়ে যায় প্রাণহীন ও রুক্ষ, যার প্রভাব পড়ে আপনার চেহারায়। নিজের সৌন্দর্য ও ব্যক্তিত্ব ধরে রাখতে নিয়মিত চুলের যত্ন নেয়া উচিত।

চুল ভালো রাখার প্রধান উপায় হলো_ চুল পরিষ্কার রাখা। কোনোভাবেই চুল ময়লাযুক্ত করে রাখা যাবে না। তা হলে চুল পড়া, খুশকিসহ নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেবে। ঝলমলে চুল সবার ভালো লাগে। কিন্তু অযত্ন আর অবহেলায় চুলের উজ্জ্বলতা কমে যায়। হয়ে যায় প্রাণহীন ও রুক্ষ, যার প্রভাব পড়ে আপনার চেহারায়। নিজের সৌন্দর্য ও ব্যক্তিত্ব ধরে রাখতে নিয়মিত চুলের যত্ন নেয়া উচিত।

প্রতিদিন শ্যাম্পু করা নিয়ে অনেকের ভুল ধারণা রয়েছে। কেউ কেউ ভাবেন, এতে চুল রুক্ষ হয়ে পড়ে। এটি ঠিক নয়। প্রতিদিন শ্যাম্পু করলে চুলে ময়লা জমতে পারবে না। ফলে চুল নিয়ে বেশিরভাগ সমস্যাই কমে যাবে। কিন্তু শ্যাম্পু করতে হবে সঠিক নিয়মে। প্রথমে শ্যাম্পু ছোট কোনো বাটিতে ঢেলে নিন। সঙ্গে পরিমাণমতো পানি মিশিয়ে নিন। এরপর তেল দেয়ার মতো করে চুলের গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত লাগাতে হবে। ব্যস্ততা থাকলে পানিমিশ্রিত শ্যাম্পু পেছনের চুল থেকে সামনের চুলে লাগান। এরপর ভালোভাবে ধুয়ে ফেলতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে, খুব সামান্য পরিমাণ শ্যাম্পুও যেন চুলে লেগে না থাকে।

এবার আসা যাক বাড়তি যত্নে। কন্ডিশনার চুলকে মসৃণ করে, তবে কখনো মাথার ত্বকে কন্ডিশনার ব্যবহার করা উচিত নয়। এতে চুলে খুশকি হয়। আর তৈলাক্ত চুলে সপ্তাহে দুদিন কন্ডিশনার ব্যবহার করতে পারেন। শুষ্ক ও মিশ্র চুলে নিয়মিত লিভ-ইন কন্ডিশনার ব্যবহার করুন। ভালোভাবে চুল মুছে নিন। এরপর মোটা দাঁতের চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়াতে হবে। দিনে কয়েকবার চুল আঁচড়াতে উচিত। এতে রক্ত সঞ্চালন ঠিকভাবে হয়। মনে রাখতে হবে, কোনো অবস্থাতেই ভেজা চুল বাঁধা যাবে না। তাতে চুলে গন্ধ হবে এবং জট বাঁধবে।

এছাড়া চুলকে আকর্ষণীয় করতে চাইলে আরো পরিচর্যা করতে হবে। ১৫ দিন অন্তর হলেও তেল দেয়া প্রয়োজন। তেল সামান্য গরম করে চুলে মালিশের মতো করে লাগাতে হবে। এরপর গরম পানিতে তোয়ালে ভিজিয়ে মাথায় চেপে রাখুন ১৫ মিনিট। ঘরে বসেই হয়ে গেল হেয়ার স্টিম নেয়া। আপনি চাইলে বিভিন্ন বিউটি পার্লারে গিয়ে হেয়ার স্পা করাতে পারেন মাসে একবার। এছাড়া বাড়িতেও লাগাতে পারেন নানা ধরনের চুলের প্যাক। মৌসুমি যে কোনো ফল কিংবা কলা, আপেল, পেঁপে, টক দই মিশিয়ে প্যাকল তৈরি করা যেতে পারে। তবে তৈলাক্ত চুলে কলা না দেয়াই ভালো। মেহেদি, রিঠা, আমলকীর প্যাক চুলে ব্যবহার করতে পারেন। খেয়াল রাখবেন, এসব প্যাক আপনার চুলে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া করছে কিনা। আগে বুঝে নিতে হবে চুলের ধরন। সে অনুযায়ী চুলের প্রসাধন ব্যবহার করবেন। আর রোদ ও ধুলো থেকে যত দূরে থাকা যায়, ততই ভালো। সম্ভব হলে তখন চুল ঢেকে রাখবেন।

৯ এপ্রিল, ২০১৩

ত্বক উজ্জল ও ফর্সা করার কিছু টিপস

  •  প্রতিদিন ব্যবহারের জন্য মসুর ডালের বেসন, মধু ও সামান্য তিলের তেলের মিশ্রণ বেশ উপযোগী। রোদে পোড়া ভাবও দূর হবে।
  • মধু, কাঁচা হলুদ, দুধ ও তিলের তেল চুলায় অল্প আঁচে নাড়তে থাকুন। আঠালো হয়ে এলে নামিয়ে ঠান্ডা করে ফ্রিজে রেখে দিন। বাইরে থেকে ফিরে প্রতিদিন এই প্যাক ব্যবহার করতে পারেন।
  • বেসন-দই, লেবুর প্যাক: ২ চামচ আটা, মসুরির ডাল বাটা অথবা বেসন নিয়ে তার মধ্যে লেবুর রস মেশান৷ এবার ওর মধ্যে দই মিশিয়ে প্যাকটাকে গাঢ় করে নিন৷ মুখে, ঘাড়ে ভালো করে ঐ প্যাকটা লাগান৷ ২০ মিনিট রাখার পরে মুখটা ধুয়ে ফেলুন৷ এতে ত্বকের চমক বাড়বে৷
  • ত্বকের পোড়াভাব দূর করতে বাইরে থেকে ফিরে মুখে, গলায় ও হাতে টমেটোর রস লাগান। শুকিয়ে গেলে আরো একবার লাগান। ২০ মিনিট পর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত ব্যবহার করলে রোদে পোড়া দাগ থাকবে না।
  • পাতিলেবুর রস, নিমপাতার রস, মুলতানি মাটি মিশিয়ে পুরো মুখে লাগিয়ে রাখুন। আধঘণ্টা পর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
  • কাঁচা হলুদের রস, মুলতানি মাটি মিশিয়ে মুখে লাগান। প্যাক শুকিয়ে এলে গোলাপজল দিয়ে মুছে নিন।
  • দই এবং ময়দা মিশিয়ে মাখলেও ত্বকের কালো ছোপ তুলতে সাহায্য করে
  • কলা পেস্ট করে মধু মিশিয়েও ত্বকে লাগাতে পারেন। ১০-১৫ মিনিট রেখে দিন। পরে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

৫ এপ্রিল, ২০১৩

চুলের আগা ফাটা রোধ করতে করণীয়:

শুধু মেয়েদের জন্য -
  • প্রচুর পরিমাণে পানি পান করবেন হেয়ার ড্রায়ারের (৬ ইঞ্চি দূর থেকে) ঠাণ্ডা বাতাস ব্যবহার করার চেষ্টা করবেন অথবা যদি সম্ভব হয় হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকবেন।
  • প্রতি ছয় সপ্তাহে একবার চুলের আগা ছেঁটে ফেলবেন।
  • চুল অতিরিক্ত আঁচড়ানো যাবে না। তাতে আগা ফেটে যাওয়ার প্রবনতা বেড়ে যায়।
  • চুলে হিট (হেয়ার ড্রয়ার) ব্যবহার না করাই উত্তম। 
  • বারি দিয়ে বা ঝরা মেরে চুল শুকাবেন না।
  • চুলের খাবার হচ্ছে প্রোটিন। তাই প্রয়োজন ডিম, মাছ, মাংস, দুধ বা ডাল।
  • কখনো কখনো কিছু মিনারেল প্রয়োজন হতে পারে। প্রতিদিন ১টি করে মিনারেল সমৃদ্ধ ভিটামিন, যেমন ক্যাপসুল সুপারভিট এম ২-৩ মাস খেলে উপকার পেতে পারেন।

২ এপ্রিল, ২০১৩

১০টি শারীরিক কৌশল




  1. অনেক সময় গলার ভেতরে এমন জায়গায় হঠাৎ চুলকানী শুরু হয় যে, কি করবেন দিশেহারা হয়ে পড়েন। ওই জায়গাটি চুলকে নেওয়ার কোন উপায়ও থাকে না। কিছু সময় কানে টান দিয়ে ধরে রাখুন দেখবেন চুলাকনী উধাও। 
  2. অনেক শব্দের মধ্যে বা ফোনে কথা স্পষ্ট শুনতে পারছেন না? কথা শোনার জন্য ডান কান ব্যবহার করুন। দ্রুত কথা শোনার জন্য ডান কান খুব ভাল কাজ করে এবং গান শোনার জন্য বামকাজ উত্তম।
  3. বড় কাজটি সারবেন, কিন্তু আশে পাশে টয়লেট নেই? আপনার ভালবাসার মানুষের কথা ভাবুন। মস্তিষ্ক আপনাকে চাপ ধরে রাখতে সাহায্য করবে। 
  4. পরের বার ডাক্তার যখন আপনার শরীরে সুঁই ফুটাবে তখন একটি কাঁশি দিন। ব্যথা কম লাগবে। 
  5. বন্ধ নাক পরিষ্কার বা সাইনাসেরচাপ থেকে মুক্তি পেতে মুখের ভেতরের তালুতে জিহ্বা চেপে ধরুন। এরপর দুই ভ্রুর মাঝখানে ২০ সেকেন্ড চেপে ধরুন। এভাবে কয়েক বার করুন, দেখুন কি হয়!
  6. রাতে অনেক খেয়ে ফেলেছেন এবং খাবার গলা দিয়ে উঠে যাচ্ছে। কিন্তু ঘুমাতেও হবে। বাম কাত হয়ে শুয়ে পড়ুন। অস্বস্তি দূর হবে।
  7. কোন কিছুর ভয়ে বিচলিত? বুক ধক ধক করছে? বুড়ো আঙ্গুল নাড়তে থাকুন এবং নাক দিয়ে পেট ভারে সজোরে শ্বাস নিন এবং মুখ দিয়ে ছাড়ুন। স্বাভাবিক হয়ে যাবেন।
  8. দাঁত ব্যথা? এক টুকরো বরফ হাতের বৃদ্ধাঙ্গুল এবং তর্জনীর মাঝামাঝি জায়গার উপর তালুতে ঘষুন। দেখুনতো ব্যথা কমলো কিনা!
  9. কোন কারণে চোখের সামনে পুরো পৃথিবী ঘুরছে? কোন শক্ত জায়গা বা জিনিসে কান সহ মাথা চেপে ধরুন। পৃথিবী ঘোরা বন্ধ করে দেবে।
  10. নাক ফেটে রক্ত পড়ছে? একটুখানি তুলা নাকের নিচ বরাবর যে দাঁত আছে তার মাড়ির পেছনে বসান, এবার জোরে ওখানে তুলাটি চেপে ধরুন। রক্তপাত বন্ধ! 

৩১ মার্চ, ২০১৩

বেকিং পাউডার

হয়তো ভাবছেন, বেকিং পাউডারের সাথে রূপচর্চার আবার কি সর্ম্পক? বেকিং পাউডার দিয়ে তো রান্না ঘরে মজার মজার খাবার তৈরি হয়। কিন্তু জেনে অবাক হবেন, রূপচর্চার ক্ষেত্রেও বেকিং পাউডারের রয়েছে অনেক উপকারী দিক। চলুন জানা যাক বেকিং পাউডারের উপকারিতা সর্ম্পকে।

ফেসওয়াস হিসেবে বেকিং পাউডার: ১ চা চামচ হালকা কুসুম গরম পানির সাথে ২ চা চামচ বেকিং পাউডার মিলিয়ে পেস্ট তৈরি করে নিন। মুখ পানি দিয়ে ভিজিয়ে বেকিং পাউডারের পেস্ট মেখে হালকা করে কিছুক্ষণ ম্যাসাজ করুন। দেখবেন মুখের ময়লা উঠে গিয়ে একটা ফ্রেস ভাব চলে এসেছে। 

ত্বকের মৃত কোষ পরিস্কার: বেকিং পাউডারের ত্বকের মৃত কোষ পরিস্কারে চমৎকার কাজ করে। দৈনন্দিন ক্লিনজারের সাথে বেকিং পাউডার মিশিয়ে কিছুক্ষণ মুখে ম্যাসাজ করুন। এতে ত্বকের মরা চামড়া পরিস্কারভাবে উঠে আসবে। ত্বক তৈলাক্ত হলে সামান্য পানি মিশিয়ে নিতে পারেন। 

পায়ের যত্নে বেকিং পাউডার: ব্যস্ততা অথবা অবহেলা, আমরা খূব কমই পায়ের যত্ন নিতে পারি। হালকা কুসুম গরম পানির সাথে বেকিং পাউডার মিশিয়ে কিছুক্ষণ পা ভিজিয়ে রাখুন। বেকিং পাউডারের পায়ের গোড়ালির মরা চামড়া তোলাসহ পায়ের ত্বককে করবে মসৃন। 

রোদে পোড়া ত্বক: রোদে পোড়া, কোচকানো ত্বককে কোমল ও মসৃন করতে বেকিং পাউডার অত্যন্ত কর্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে। প্রথমে একটি পাত্রে পানির সাথে বেকিং পাউডারের মিশিয়ে নিন। পরে একটি পরিস্কার কাপড় ওই পানিতে ভিজিয়ে তা দিয়ে হালকা ভাবে রোদে পোড়া ত্বক মুছে নিন। এতে রোদে পোড়া ত্বকে আরাম পাবেন আর ত্বকের কালো পোড়া দাগগুলো কিছু দিন পরে আর ত্বকে খুঁজে পাবেন না। 

ব্রণ: আপনার মুখে যদি ব্রণের সমস্যা থেকে থাকে তাহলেও ভয়ের কিছু নেই। প্রথমে মুখ ভালো ভাবে পরিস্কার করে নিন। তারপর পানি আর বেকিং পাউডারের পেস্ট মুখে মেখে ১০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। বেকিং পাউডার ব্ল্যাকহেডস পরিস্কারেও উপকারী। 

আজই রান্নাঘরে খোঁজ করুন বেকিং পাউডার আছে কিনা। না থাকলে, নিয়ে আসুন আর নিয়মিত ত্বকের যত্নে ব্যবহার করুন।

৩০ মার্চ, ২০১৩

মুটিয়ে গেলে দেহে ভিটামিন ডি এর অভাব ঘটতে পারে

স্থূলতা মানবদেহে ভিটামিন ডি’র মাত্রা কমিয়ে দিতে পারে। এমনই তথ্য বেরিয়ে এসেছে এক গবেষণায়।

সম্প্রতি ‘পিএলওএস’ স্বাস্থ্য সাময়িকীতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, মানুষের আদর্শ স্বাস্থ্য ‘বডি ম্যাস ইন্ডেক্স’ বা (বিএমআই) প্রতি ১০ শতাংশ বৃদ্ধিতে ভিটামিন ‘ডি’ এর মাত্রা চার শতাংশ কমে যেতে পারে।
২১টি গবেষণা থেকে পাওয়া ৪২ হাজার মানুষের বংশগত তথ্য (জেনেটিক ডাটা) পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

ভিটামিন ‘ডি’ দেহের ফ্যাটি টিস্যুতে সঞ্চিত থাকে। মোটা মানুষের দেহে অতিমাত্রায় ফ্যাট সঞ্চিত থাকার করণে রক্তে ভিটামিন ‘ডি’ সঞ্চালন বাধা পায়।

যাদের দেহে বিএমআই ৩০ বা তার ওপরে তাদেরকেই সাধারণত স্থূল বলে গণ্য করা হয়।

গবেষক দলের প্রধান ‘ইউনিভার্সিটি কলেজ অব লন্ডন’ এর ‘ইনস্টিটিউট অব চাইল্ড হেলথ’ এর শিক্ষক ড. ইলিনা হাইপোনেন বলেন, এ গবেষণা থেকে বোঝা যাচ্ছে যে, অতিরিক্ত ওজনের এবং মোটা মানুষদের দেহে ভিটামিন ডি এর ঘাটতির ওপর নজর রাখা এবং এর জন্য চিকিৎসা নেয়ার বিষয়টি কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

আমরা মূলত সূর্যালোক থেকে ভিটামিন ডি পাই। তাছাড়া, খাবারের মাধ্যমেও দেহে ভিটামিন ডি নেয়া যায়।

দেহে ভিটামিন ডি স্বাস্থ্যসম্মত পর্যায়ে রাখার মাপকাঠি হচ্ছে প্রতি লিটারে ৫০ ন্যানোমল। এটি ৩০ ন্যানোমলের নিচে নেমে গেলে মানুষের হাড় নরম বা দুর্বল হয়ে যেতে পারে।

এর ফলে শিশুদের ক্ষেত্রে রিকেট বা হাড়জনিত রোগ, এবং প্রাপ্ত বয়স্কদের ক্ষেত্রেও নানারকম রোগ দেখা দিতে পারে।

ন্যাশনাল ওবেসিটি ফোরামের অন্যতম সদস্য অধ্যাপক ডেভিড হাসলাম বলেন, খাদ্যাভ্যাস এবং বংশগত দিক দু’টোই মানুষের মুটিয়ে যাওয়ার জন্য দায়ী।

তবে দৈহিক পরিশ্রম যেমন- হাঁটা, দৌড়-ঝাপ করা, শারিরীক কসরত এবং সূর্যস্নান করার মতো কাজগুলোর মধ্যদিয়ে মানুষ দেহের ওজন ঠিক রাখার পাশাপাশি ভিটামিন ‘ডি’র অভাবও দূর করা যায়—সেকথাই স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে গবেষণার এ ফল।

ঘরে লুকানো বিষক্ত রাসায়নিক!

গৃহস্থলী আসবাব পত্র, সোফা থেকে শুরু করে রান্নার হাড়িপাতিল পর্যন্ত, ওয়ালপেপার বা পর্দা ইত্যাদি দেখতে নিরাপদ মনে হলেও তাতে রয়েছে লুকানো আপনার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর বিষক্ত রাসায়নিক। এসব বিষক্ত রাসায়নিক আপানর এলার্জি হওয়া থেকে শুরু করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা পর্যন্ত কমিয়ে নানা অসুস্থতা যেমন ঠান্ডা বা সর্দিজ্বরে আক্রান্ত করে দিতে পারে।


বাসন-পত্র: 
সিরামিকের পাত্রের বদলে মেলাইমানের বাসন-পত্রে গরম খাবার খেলে বিষক্ত মেলামাইনও খাবারের সাথে ছড়িয়ে পড়ে সারা দেহে। তাছাড়া মেলামাইনের পাত্রে গরম খাবার খেলে কিডনি বিকল থেকে শুরু করে ক্যান্সারেরও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই গরম খাবার সিরামিকের পাত্রে খাওয়া উচিৎ।

সোফা: 
আপনার সোফার কাপড়ে ব্যবাহার করা হয় এমন কিছু রাসায়নিক পদার্থ যা আগুন ধরা থেকে মুক্ত রাখে। যা গৃহস্থলী ধুলাবালিতে মিশে এবং হাতে জড়িয়ে খাবারে মেশে। ওই বিষক্ত রাসায়নিকগুলো খাবারের সাথে আমাদের দেহে এন্ডোক্রাইন ডিজরাপশন থেকে শুরু করে যৌন স্বাস্থ্যেরও হানি ঘটায়। তাই ভেক্যুয়াম ডাস্ট ক্লিনার দিয়ে যতটা সম্ভব আপনার সোফাকে ধুলা মুক্ত রাখুন।

বাতি: 
যদিও আমরা কখনও ভাবি না যে বাতি থেকে বিষ ছড়াতে পারে। গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে লাইটের নিচে কাজ করলে পুরুষদের প্রোস্টেট এবং নারীদের স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি থাকে। রাতে লাইটের নিচে কাজ করলে দেহে হরমোন জনিত পরিবর্তন ঘটে এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি তৈরি করে। রাতে কাজ করার ফলে প্রোস্টেট, কোলন, ফুসফুস, ব্লাডার, এবং অগ্ন্যাশয়ের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়া সম্ভাবনা থাকে।

নন-স্টিক হাড়ি পাতিল: 
পিএফসি নামক এক ধরণের বিষক্ত রাসায়নিক রয়েছে এসব নন-স্টিক হাড়ি পাতিলে, যার গর্ভের শিশু থেকে বয়ষ্করা পর্যন্ত মেদবহুলতা এবং ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। এছাড়া রোগ শিশুর প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমিয়ে কমিয়ে দেয় এই রাসায়নিকটি।

২৭ মার্চ, ২০১৩

চুল তাত্ক্ষণিক ভাবে ঝলমলে করার একটা ছোট্ট টিপস

ডাবের পানি ও গ্লিসারিন একসঙ্গে মিশিয়ে, মিশ্রণটি চুলে লাগান, ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। চুল ঝলমলে হয়ে যাবে।

২৬ মার্চ, ২০১৩

ত্বকের যত্নে ময়েশ্চারাইজার

তকের যত্ন নিয়ে তরুণী-মহিলা-গৃহবধুদের দুশ্চিন্তার অন্ত নেই। সবাই চান সুন্দর মসৃণ কোমল ত্বক। ঠিক যেন কিশোরীর মত। ত্বকের ধরন বুঝে সামান্য যত্ন এবং প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেয়া গেলে ত্বক বিবর্ণ হওয়া, ত্বকে বাদামী স্পট পড়া, ত্বক কালো বর্ণ ধারণকরা, ত্বক রুক্ষ হওয়া ইত্যাদি কিছু সাধারণ সমস্যা থেকে রক্ষা করা যায়। প্রয়োজন হয়না অত্যন্ত ব্যয়বহুল লেজার ও অন্যান্য কসমেটিক চিকিৎসা। আর ত্বক সুন্দর রাখতে ত্বকের ধরণ বুঝে নিয়মিত ময়েশ্চেরাইজার ব্যবহার করা উচিত। এতে ত্বকের শুষ্কতা-রুক্ষ্মতা রোধ করে এবং ত্বক মসৃণ ও কোমল হয়। তবে অবশ্যই ত্বকের ধরন বুঝে ময়েশ্চারাইজার বা লোশন ব্যবহার করা উচিত। শুধু শুষ্ক তক বা তৈলাক্ত ত্বক বলাই যথেষ্ট নয়। ১৬ ধরনের ত্বক রয়েছে। আর ত্বক পরিচর্যায় শুধু নামী-দামী ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে তাই নয়, সামান্য অলিভ অয়েল বা সাদা ভ্যাসলিন বা ভ্যাসলিন লোশন ব্যবহার করতে পারেন। সামান্য পরিমাণ সাদা ভ্যাসলিন বা ভ্যাসলিন লোশন মুখ ও ত্বকে ব্যবহার করলে ত্বক মসৃণ ও কোমল হয়। ভ্যাসলিনের সঙ্গে কিঞ্চিত পানি মিশিয়ে নিতে পারেন, যদিও ভ্যাসলিন-পানি একসঙ্গে মেশানো খানিকটা কঠিন।

ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি

সহজ কিন্তু উপকারী একটি প্যাক-

কলা ও মুলতানী মাটি একসঙ্গে পেস্ট করে সেটা চেহারা ও গলার ত্বকে ১০ মিনিট ধরে লাগিয়ে রাখুন। ত্বকে উজ্জ্বলতা আসবে। দাগ দূর হবে।

২৪ মার্চ, ২০১৩

How foods affect our bodies


গরমে ত্বকের যত্ন

ভ্যাপসা গরমে জনজীবন অস্থির। শরীর- মনের সঙ্গে ত্বকের অবস্থাও নাজুক। তবে হাত পা গুটিয়ে বসে থাকলে হবে না, প্রয়োজন বাড়তি যত্ন।

সারা বছরই  ত্বকের যত্ন নিতে হয়। তবে গরমকালে এটি বাধ্যতামূলক। কারণ এ সময় ঘাম বেশি হয়। বাতাসে ধুলা ময়লাও  বেশি থাকে। ফলে এই সময়টায় ত্বক ঠিক রাখতে একটু সচেতন আপনাকে হতেই হবে। অনেকেই অলসতা করে ত্বকের বিষয়ে উদাসীন থাকেন। তার ফলাফল কিন্তু খুব ভালো হয় না। ত্বকে ব্রন ও র‌্যাশ দেখা দেয়।

সব সময় পার্লারে গিয়ে ত্বকের সঠিক যত্ন নেওয়ার সময় হয়ে ওঠে না। তাই ঘরে বসে কেমন করে ত্বক সজিব, প্রাণবন্ত থাকবে তার কিছু পরামর্শ দেওয়া হলো:

সর্ব প্রথম ত্বক পরিস্কার রাখতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।
বাইরে থেকে ফিরে নিয়মিত ত্বক পরিস্কার করতে হবে।

বেড় হওয়ার সময় অবশ্যই সানস্ক্রিন লাগিয়ে নিন।


সপ্তাহে অত্যন্ত দুই দিন ঘরে তৈরি প্যাক লাগাতে হবে। এতে করে ত্বকের ভেতরের ময়লা দূর হয়ে ত্বকের উজ্বলতা ফিরে আসবে।

২ চামচ ময়দা, ১ চামচ মধু এবং পাকা কলার মাক্স লাগিয়ে ১৫ মিনিট রেখে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

এসময় প্রচুর মৌসুমী ফল পাওয়া যায়। খাওয়ার পাশাপাশি ত্বকেও লাগাতে পারেন তরমুজের রস এবং অন্যান্য ফল।

ভালো মানের ফেস ওয়াস ব্যবহার করুন।

সপ্তাহে ২ থেকে তিন দিন স্ক্রাব লাগান। চালের গুড়া ভালো প্রাকৃতিক স্ক্রাবের কাজ করে।

২২ মার্চ, ২০১৩

Hair Care


চুলের জন্য দিওয়ানা:
  • যতোবার প্রয়োজন শ্যাম্পু করতে থাকুন। সপ্তাহে দু’বার রাতে অলিভ অয়েল লাগিয়ে সকালে শ্যাম্পু করে ফেলুন যা চুলের আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করবে।
  • চুলের পুষ্টির জন্য প্রোটিন সমৃদ্ধ কন্ডিশনার ব্যবহার করুন।
  • চুল বেশি শুষ্ক ও ভঙ্গুর হলে নিয়মিত নারকেল তেল হালকা গরম করে ম্যাসেজ করুন। এতে করে চুলের গোড়ায় রক্ত সঞ্চালন ভাল হবে।
  • শুষ্ক চুলের জন্য ভিটামিন ই, অ্যালোভেরা সমৃদ্ধ শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার ব্যবহার করতে হবে।
  • তৈলাক্ত চুল শ্যাম্পু করার সময় হালকা করে ঘষুন। বেশি ঘষলে চুল তেল তেলে হয়ে যাবে।
  • ঘন ক্রিমের মতো শ্যাম্পু ব্যবহার করবেন না। প্লেইন শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। শ্যাম্পু দেখতে ট্রান্সপ্যারেন্ট হলে বুঝবেন এটা প্লেইন শ্যাম্পু।
  • কন্ডিশনার ব্যবহারের ক্ষেত্রে চুলের শেষ প্রান্তে লাগাতে পারেন।

স্বাভাবিক চুল
  • স্বাভাবিক চুলের জন্য ন্যাচারাল শ্যাম্পু ব্যবহার করুন।
  • চুলের পুষ্টির জন্য ডিম, দই ফেটিয়ে চুলের গোড়ায় লাগিয়ে আধা ঘন্টা রেখে শ্যাম্পু করে ফেলুন।
  • শ্যাম্পু করার ঘন্টা খানেক আগে ঢেলে কুসুম কুসুম গরম করে লাগান। এতে করে লোমকূপগুলো খুলে যাবে এবং ময়লাগুলো খুব সহজেই বের হবে।

সিল্কি চুলের
  • শ্যাম্পু করার পর ভিনেগার মেশানো পানিতে চুল ধোবেন।
  • চাল ধোয়া পানিতে বেসনগুলে চুলে লাগান। কয়েক মিনিট পর ভাল করে ধুয়ে ফেলুন।
  • শ্যাম্পু করার পর লেবুর রস দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। এর ফলে চুল সিল্কি হয়ে উঠবে এবং চিটচিটে ভাবও দূর হবে।

খুসকিকে ‘না’ বলার উপায়
  • শ্যাম্পু করার পূর্বে ভেজা চুলে লবণ ঘষে নিন।
  • রাতে শোওয়ার আগে লেবুর ও আমলকীর রস মিশিয়ে মাথায় লাগিয়ে শ্যাম্পু করুন।
  • টক দইয়ের সঙ্গে লেবুর রস ও নিম পাতার রস মিশিয়ে মাথায় লাগান এবং আধ ঘন্টা পর শ্যাম্পু করুন।
  • সারারাত পানিতে মেথি ভিজিয়ে বেটে চুলের গোড়ায় লাগিয়ে আধ ঘন্টা পর শিকাকাই শ্যাম্পু বা রিঠে দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন।
  • নারকেল তেল ও কর্পূর গরম করে মাথায় লাগান। এক ঘন্টা রেখে শ্যাম্পু করে ফেলুন।
  • খুশকি দূর করতে পেঁয়াজের রস বেশ কার্যকরী। পেঁয়াজের রসে থাকা সালফার খুশকির বিপরীতে দারুণ কার্যকরী। পেঁয়াজ ব্লেন্ড করে এর রস মাথায় লাগিয়ে ১ ঘন্টা পর শ্যাম্পু করে ফেলুন।
  • ডিমের সাদা অংশের সঙ্গে লেবুর রস, নিমপাতার রস ও আদার রস এক সঙ্গে মিশিয়ে চুলের গোড়ায় লাগান। আধ ঘন্টা পর শ্যাম্পু করুন।

চুলের কিছু এক্সক্লুসিভ টিপস্
  • লেবু, কিউয়ি সমৃদ্ধ শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। ফ্রুট অ্যাসিড চুলের তেলতেলে ভাব ও ময়লা পরিষ্কার করে। চুলকে সজীব করে তোলে।
  • গ্লাসে বিয়ার ঢেলে রেখে দিন। এবার এ ফ্ল্যাট বিয়ার শ্যাম্পু করার পর পুরো চুলে ভাল করে লাগান। বিয়ার লাগানোর পর চুল ধোয়ার প্রয়োজন নেই কারণ বিয়ারের গন্ধ এমনি এমনিই চলে যাবে।
  • ভিটামিন বি সমৃদ্ধ খাবার বেশি করে খান। বিশেষ করে ফল, শাকসবজি।
  • ডিম, বাঁধা কপিতে ভিটামিন বি’র সঙ্গে সঙ্গে সালফারও থাকে যা খুশকি দূর করার জন্য উত্তম।
  • মাঝে মাঝে শ্যাম্পুর সঙ্গে দু’টো ভিটামিন-ই ক্যাপসুল মিশিয়ে নিন।
  • মাথা ম্যাসেজ করার সময় নখ দেবেন না।

২০ মার্চ, ২০১৩

স্তন ক্যান্সার : মেয়েদের সর্বাধিক ভীতিকর রোগের মধ্যে একটি


মেয়েদের সর্বাধিক ভীতিকর রোগের মধ্যে স্তন ক্যান্সার একটি। আসুন জেনে নেই এই স্তন ক্যান্সার সম্বন্ধে কিছু তথ্য:
  • স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত সবচে ছোট বয়সী মেয়ে Aleisha Hunter, সে মাত্র ৩ বছর বয়সে আক্রান্ত হয়।
  • প্রথম যে অপারেশনের জন্য এনেস্থেসিয়া ব্যবহার করা হয়েছিল তা ছিল স্তন ক্যান্সারের জন্য অপারেশন যা Mastectomy নামে পরিচিত।
  • উন্নত দেশগুলোতে অনুন্নত দেশগুলোর চেয়ে স্তন ক্যান্সারের হার বেশি।
  • বাঁদিকের স্তনে সর্বদা স্তন ক্যান্সার বেশি হয় । বিজ্ঞানীরা এখনও জানেন না কেন।
  • এপর্যন্ত আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে সবচে বেশি স্তন ক্যান্সারের রোগী পাওয়া গেছে।
  • প্রথম Mastectomy সার্জারি করা হয় ৫৪৮ খ্রিষ্টাব্দে। বাইজানটাইন সাম্রাজ্যের রানীর জন্য।
  • মায়ের স্তন ক্যান্সার থাকলে মেয়ের হবে এমন কোন কথা নেই
  • ৯৭% স্তন ক্যান্সার ৪০ বছর বা তার বেশি বয়সে হয়।
  • ফর্সা মেয়েদের কালো মেয়েদের থেকে বেশি স্তন ক্যান্সার হয়।
  • প্রেগন্যান্ট অবস্থায় স্তন ক্যান্সার হলে বাঁচার সম্ভাবনা কম থাকে।
  • ছেলেদেরও স্তন ক্যান্সার হতে পারে । তবে তা মেয়েদের সংখ্যার তুলনায় মাত্র ১% 
  • স্তন ক্যান্সারকে মাঝে মাঝে Nun's Disease বলা হয় । নানদের মধ্যে এর প্রকোপের কারনে
  • বাচ্চাকে স্তন্যদান করানো স্তন ক্যান্সারের ঝুকি অনেকাংশে কমিয়ে দেয়।
  • যথেচ্ছা এন্টিবায়োটিক খাওয়া স্তন ক্যান্সারের ঝুকি বৃদ্ধি করে।
  • যাদের স্তন বেশি বড় তারা স্তন ক্যান্সারের বেশি ঝুকিতে থাকে।
  • যারা রাতে ওভারটাইম ডিউটি করে তাদের স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি থাকে।
  • স্তন ক্যান্সারের সাথে যাদের ডায়াবেটিস থাকে তাদের মৃত্যুহার বেশি।
  • যৌনমিলনে স্বাভাবিকের চেয়ে কম অংশ নিলে স্তন ক্যান্সার এর ঝুকি বেড়ে যায়।
  • বাঁহাতি মহিলাদের স্তন ক্যান্সার বেশি হয়।
  • ছেলেদের স্তন ক্যান্সারের কারণগুলার মধ্যে আছেঃ
    • Klinefelter's Syndrome
    • অণ্ডকোষে সমস্যা
    • জিন মিউটেশন
    • ফ্যামিলিতে কারো থাকলে
    • লিভারে বড় ধরনের সমস্যা
    • রেডিয়েশন এর মধ্যে থাকলে
    • Estrogen-related drug সেবন করলে
    • অতি স্থুলতা

শুক্রাণু ধ্বংস করে ওয়াই-ফাই ল্যাপটপ

ল্যাপটপ কোলের ওপর বা শরীরের কাছাকাছি ব্যবহার করায় ক্ষতির আশংকা করছেন গবেষকরা। এ বিষয়ে সাম্প্রতিক এক গবেষণার ফল বলছে ওয়াই-ফাই প্রযুক্তির ল্যাপটপ ব্যবহারে শুক্রাণু সংখ্যা কমে যেতে পারে। খবর টেলিগ্রাফ অনলাইন-এর।


ল্যাপটপ যে তাপ তৈরি করে তাতে যে ক্ষতি হয় তার চেয়েও ওয়াই-ফাই সিগনালযুক্ত ল্যাপটপ ব্যবহারে ক্ষতির মাত্রা বেশি হয় বলেই গবেষকদের মত।

যুক্তরাষ্ট্র এবং আর্জেন্টিনার গবেষকদের করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, ওয়াই-ফাই সিগনাল শুক্রাণুর ওপর প্রভাব ফেলে এবং জেনেটিক কোডেও পরিবর্তন করতে পারে।

গবেষণার ফল প্রকাশিত হয়েছে ‘ফার্টিলিটি অ্যান্ড স্টেরিলিটি’ সাময়িকীতে।

গবেষকদের মতে, ওয়াই-ফাই প্রযুক্তি থেকে যে ইলেকট্রোম্যাগনেটিক তেজস্ক্রিয়া নির্গত হয় তার প্রভাব পড়ে শুক্রাণুতে। এর ফলে, শতকরা ২৫ ভাগ শুক্রাণু নড়াচড়া করতে পারে না এবং ৯ ভাগের ডিএনএ পরিবর্তন হয়ে যায়।

গবেষকরা জানিয়েছেন, ওয়াই-ফাই ব্যবহার করে দীর্ঘক্ষণ ডাউনলোড করা বা অতিরিক্ত গরম হওয়া ল্যাপটপে এ সমস্যা তৈরি হতে পারে। তবে, ঠিক কোন মডেলের ল্যাপটপে বেশি সমস্যা হয় সে বিষয়ে গবেষণা প্রয়োজন বলেই গবেষকরা জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, কোলের ওপর ল্যাপটপ ব্যবহার করলে অতিরিক্ত তাপে শুক্রাণুর ক্ষতি হতে পারে এমন আশঙ্কার কথা গবেষকরা আগেই জানিয়েছিলেন।

১৯ মার্চ, ২০১৩

Soft Skin

আপনি নিখুঁত, তরুণ্যভরা, ব্রণমুক্ত, উজ্জ্বল কোমল ত্বক চান? তবে আজ থেকেই শুরু করুন নিয়মিত যত্ন নিতে। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চেহারাকে সুযোগ দিন মিষ্টি হেসে আপনাকে ধন্যবাদ জানাতে। আর নিজেকেই খুঁজে নিন নতুন রূপে:

মশ্চারাইজার: আপনার ত্বকের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নিয়মিত ভাল মানের মশ্চারাইজার ব্যবহার করুন।

হাসি: হাসতে ভুলে যান নি তো, মনে করে দেখুনতো কবে মন খুলে হেসেছেন? জানেন তো হাসি শ্রেষ্ঠ ওষুধ। মনে রাখবেন সমবয়সী হলেও যারা সারাক্ষণ গম্ভীর মুডে থাকে তাদের চেয়ে হাসিখুশি থাকাদের দেখতে অনেক ছোট লাগে।


ব্যায়াম: দৈনন্দিন রুটিনে একটি নির্দিষ্ট সময় সহজ কিছু ব্যায়ামের জন্য বরাদ্দ করে দিন। সারা দিন ব্যস্ততার জন্য সময় না পেলে রাতে খাওয়ার পরে হাঁটুন।

পানি: ত্বক সতেজ এবং সুন্দর রাখতে হলে আদ্রতা রক্ষা করতে হয়। পানির প্রয়োজনীয়তা নিশ্চয় আর নতুন করে বলতে হবে না বন্ধুদের। তাই শরীর এবং ত্বকের সুস্থতায় প্রতিদিন যত বেশি সম্ভব পানি পান করুন।

ফেসওয়াশ-সানস্ক্রিন প্রতিদিন: ত্বকে ময়লা জমেই ব্রণ হয়, রোদে পুড়ে কালো ছোপ পড়ে আরও কতো সমস্যা! প্রতিদিন অন্তত দুইবার ভালো কোম্পানির ফেসওয়াশ দিয়ে ত্বক পরিষ্কার করতে হবে। আর বাইরে যাওয়ার সময় অথবা ঘরে রান্নার সময়ও সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন।

স্ক্র্যাব: মরা কোষ সরিয়ে ত্বক কোমল ও মসৃণ করতে সপ্তাহে দুইদিন স্ক্র্যাব ব্যবহার করুন। চাইলে ঘরোয়া পদ্ধতিতে ত্বকে স্ক্র্যাব করতে পারেন। এজন্য চিনি, লেবুর রস এবং অলিভ অয়েল দিয়ে মাস্ক তৈরি করে নিন। এবার কিছুক্ষণ এই মিশ্রণ দিয়ে ত্বক ম্যাসাজ করে ধুয়ে নিন। চালের গুঁড়াও স্ক্র্যাব হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন।

চাপমুক্ত থাকুন: সারাক্ষণ মানসিক চাপ আমাদের শরীর এবং মনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। কোনো কিছু করতেই আগ্রহ বোধ করি না। যে সুযোগে অবহেলায় আমাদের ত্বকেরও বারোটা বাজে। মানসিক চাপ তাড়াতে চেষ্টা করুন এমন কিছু করতে যা আপনাকে সত্যিই আনন্দ দিতে পারে।

ডায়েট: আমাদের ত্বক এবং স্বাস্থ্য দুটোর সুস্থতার অনেকখানি নির্ভর করে খাদ্যাভাসের ওপর। আর তাই প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় স্বাস্থ্যকর খাবার রাখুন।

ঘুম: সঠিক বিশ্রাম না হলে শরীরের মতো আমাদের ত্বকেরও অবস্থা নাজুক হয়ে যায়। কারণ ঘুমের মধ্যেই আমাদের ত্বকের কোষগুলো ক্ষতি পুষিয়ে পরের দিনের জন্য তৈরি হয়। প্রতিদিন অন্তত আট ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করুন।

ওমেগা থ্রি: শুধুমাত্র হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতেই ওমেগা থ্রি তেল কার্যকর নয়। চর্মরোগবিশেষজ্ঞরা শুষ্ক রুক্ষ ত্বকের মসৃণতা বাড়াতেও এটি ব্যবহারের পরামর্শ দেন।

চোখ: আমাদের অনেকেরই ত্বকের অন্য অংশের চেয়ে চোখের চারপাশের ত্বক কালো থাকে। অনেক সময় অত্যন্ত স্পর্শকাতর এই ত্বক কুঁচকেও যায়। চোখের ত্বকের ডার্ক সার্কেল ঠিক করতে প্রতিদিন রাতে ভাল মানের আই ক্রিম ব্যবহার করুন। ঘরের প্রাকৃতিক উপাদানও ব্যবহার করতে পারেন চোখের কালো ও ক্লান্তিভাব দূর করে সতেজ প্রাণোচ্ছল দেখাতে, আলু বা শশা থেঁতো করে চোখের ওপর দিয়ে ৩০ মিনিট শুয়ে থাকুন। এই সমস্যা থেকে মুক্তির আরেকটি মজার সমাধান আছে, ছোট চায়ের চামচ ফ্রিজে রেখে চোখের চারপাশে চেপে চেপে ধরুন যতক্ষণ পর্যন্ত এটি স্বাভাবিক তাপমাত্রায় না আসে।

কোমল ঠোঁট: কোমল মসৃণ ঠোঁটের জন্যও আমাদের কিছু ঘরোয়া টিপস জেনে রাখলে কাজে দেবে। যেমন, ঠোঁটের কালো ভাব দূর করতে কাঁচা দুধ তুলায় নিয়ে প্রতিদিন কয়েকবার আলতো করে ঘষে কিছুক্ষণ পর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ঠোঁট মসৃণ করতে দুধের সর ও চিনি দিয়ে প্রতিদিন মাত্র দুই মিনিট ম্যাসাজ করুন, চমৎকার ফলাফল পাবেন। ঠোঁটে পেট্রেলিয়াম জেলি মেখে তার ওপরে চিনি দিয়ে স্ক্র্যাব করুন। একবার ব্যবহারেই পার্থক বুঝতে পারবেন।

বন্ধুরা কিছুক্ষণ সময় নিজের জন্য রাখুন একটু সচেতন হোন। সুপার সফট স্কিন তো মাত্র কয়েক দিনেই এসে যাবে।