২৪ নভেম্বর, ২০১৩

চুমু চমৎকার


‘যে লোক সুন্দরী তরুণীকে চুমু খেতে খেতে গাড়ি চালাতে পারে সে আসলে চুমুটার প্রতি মনযোগী নয়।’ কথাটা কোনো লেখক-কবি কিংবা নায়ক-নায়িকার মুখে শোনালে মানা যেত, কিন্তু অমোঘ এ বাণী উচ্চারিত হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে খটমটে বিষয়ের বিজ্ঞানী অ্যালবার্ট আইনস্টাইনের মুখ দিয়ে! বিজ্ঞানী মশাই ভেবেচিন্তে দেখেছেন, মনযোগী হলে ওই চুমুর প্রতিই হওয়া উচিৎ, গাড়ির প্রতি নয়! আইনস্টাইন যে প্রেমিক পুরুষ ছিলেন তা জানা কথা, তবে কথাটা ফেলে দেওয়ার মতো নয়। সময়ে সময়ে চুমুর প্রতি মনযোগী হওয়াটা আমাদের অবশ্য কর্তব্য। কেন? নিম্নে ৬টি কারণ দর্শানো হইলো-

চুমু যখন আঠা
প্রেমের সম্পর্কে চুমু রীতিমতো আঠা হিসেবে কাজ করে। এর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাও আছে। প্রতিটি চুমুতে শরীরে নিঃসৃত হয় বিশ্বাস ও আস্থা বৃদ্ধির হরমোন অক্সিটসিন। আর বিশ্বাসই তো সম্পর্কের সিমেন্ট।

রোগ সারাতে
চুমুর জৈবিক আদান প্রদানে বেড়ে যায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ভাইরাসের বংশবৃদ্ধিও ব্যহত হয়। তবে এক্ষেত্রে চুমুটা যদি হয় দৈহিক মিলনের অনুষঙ্গ, তবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে দ্বিগুণ গতিতে।

সুখের সূত্র
চুমু খেলে এনডোফিন ও এনডোরফিনস নামে দুটো আলাদা হরমোন একইসঙ্গে ছড়িয়ে যায় শরীরময়। দুটো সুখানুভূতির হরমোন। বিষণ্নতা কাটাতে তাই মনোবিজ্ঞানীর চেম্বারে ছোটার আগে চুমু খেয়ে দেখুন।

ব্যথানাশক
চুমু মানেই হরমোনের খেলা। আবেগঘন চুমুতে নিঃসরণ ঘটবে অ্যাড্রিনালিনের। পেইনকিলার হিসেবে যার জুড়ি নেই। মাথাব্যথা থাকা অবস্থায় যারা চুমু খেয়েছেন তাদের অনেকেই বলেছেন, চুমুই হতে পারে আসল প্যারাসিটামল।

চাপ কমাতে
দিন শেষে নিজেকে ক্লান্ত বিধ্বস্ত মনে হলে এর জন্য দায়ী করুন চাপের হরমোন করটিসলকে। তবে চুমু খেলেই ফের চাঙ্গা। কেননা, চুমুর ফলে কমে আসে করটিসলের মাত্রা।

কমাবে ওজন
ওজন কমাতে ক্যলোরি পোড়াতে হবে বেশি বেশি। এখানেও চুমুর চমৎকারিত্ব দৃশ্যমান! ব্যয়াম করার সময় শ্বসনের গতি বাড়ে, আর চুম্বনের সময় সেটার গতি বাড়ে দ্বিগুণ! আবার মুখের ব্যায়ামও করিয়ে ছাড়ে এই চুমু। যাতে টিকে থাকে চেহারার তারুণ্য।

তো, নিজের প্রিয়জনকে চুমু খেতে যারা অজুহাত হাতড়ে বেড়াচ্ছেন, তাদের নিশ্চয়ই আর মাথাকুটে মরতে হবে না।

২৩ নভেম্বর, ২০১৩

হার্ট অ্যাটাক হঠাৎ হয় না


হুট করে একদিন হুমড়ি খেয়ে পড়লেন। কী ব্যাপার? না, হার্ট অ্যাটাক। অথচ শরীর-স্বাস্থ্য পুরোপুরি ফিট, গায়ে একরত্তি মেদ নেই, রক্তচাপ নেই, দুর্ভাবনা-দুশ্চিন্তা নেই তিল পরিমাণও। ভুলেও কখনও বুকে ব্যথা অনুভব করেননি। তবু আচমকা আক্রান্ত হলেন হার্ট অ্যাটাকে। এর কারণ কী?

নতুন গবেষণায় বলা হয়েছে, ব্যাপার কিছু না। আসল কথা হলো, হৃদরোগ বা হার্ট অ্যাটাক আগে থেকে বলেকয়ে আসবে, এমনটা ভাবাই ভুল। তবে আক্রান্ত হওয়ার মাসখানেক আগে থেকে কিছুটা হুঁশিয়ারি সংকেত আপনি পেতেও পারেন। কখনও কখনও মাসখানেক না হলেও, মাত্র এক ঘণ্টা আগে হলেও আপনাকে হুঁশিয়ারি দেবে।

হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হওয়ার ৫টি লক্ষণ তুলে ধরা হলো:
  1. বুকে অস্বস্তি বা ব্যথা: বুক ব্যথা বা ধড়ফড় করা, অস্বস্তি কিংবা প্রচণ্ড চাপ বোধ হওয়া হার্ট অ্যাটাকের অন্যতম উপসর্গ। একটানা কয়েক মিনিট এ ধরনের অনুভূতি হওয়া বা কিছুক্ষণ পরপর তা অনুভূত হতে পারে।
  2. শরীরের ওপরের অংশে অস্বস্তি: এক বা দুই হাত, পিঠ, ঘাড়, চোয়াল বা পাকস্থলীতে ব্যথা বা অস্বস্তি অনুভূত হতে পারে। 
  3. অবসাদগ্রস্ততা ও স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা: স্বাভাবিকভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে ও ছাড়তে কষ্ট হতে পারে। শরীর অবসাদে ভেঙে পড়তে পারে। বুকের মধ্যে অস্বস্তি বোধ হোক বা না হোক, শ্বাস-প্রশ্বাস অস্বাভাবিক হলে সতর্ক হতে হবে।
  4. অতিরিক্ত ঘাম হওয়া: ব্যায়াম বা পরিশ্রম ছাড়াই অতিরিক্ত ঘাম হতে পারে।
  5. অন্য উপসর্গ: বদহজম, অরুচি, বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া ও মাথা হালকা বোধ হতে পারে।
তাই সামান্যতম লক্ষণ টের পেলেই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াটাই সবচেয়ে ভালো প্রতিরোধ, যা আপনাকে অচিরেই দুনিয়া ত্যাগ করা থেকে আরও কিছু সময় রক্ষা করবে। গবেষণা কর্মটির প্রধান পরিচালক যুক্তরাষ্ট্রের সিডার্স-সিনাই হার্ট ইনস্টিটিউটের ভিজিটিং সায়েন্টিস্ট ড. ইলই মারিজন বলেন, 'হার্ট অ্যাটাক হওয়ার আগেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে হয়। শেষ মুহূর্তে সচেতন হলেও খুব একটা লাভ হয় না।